চলতি বছরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার মানুষ অনেক পালাবদল দেখেছিল। দেখেছিল তৃণমূলের মানুষদের বিজেপিতে চলে যেতে। আবার নির্বাচন শেষ হতেই যখন তৃণমূল ফের তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসলো তখন দেখা গেল সেই দল বদলুদের আবার তৃণমূলে ফিরে আসতে।কিন্তু দলের একাংশ এবং এলাকাবাসীদের মধ্যে এই সকল নেতাদের নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে একথা বলাই বাহুল্য। এবার নিজের এলাকার ডোমজুড়েই বিক্ষোভের মুখে পড়লেন একদা তৃণমূলের সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিধানসভা ভোটের আগে রাজীব তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গেছিলেন। নিজের এলাকা ডোমজুড়ে তিনি প্রার্থী হন বিজেপির হয়ে এবং তৃণমূলের কল্যাণ ঘোষ এর কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। এরপরে কিছুদিন আগে আবার রাজীব ফিরে আসেন তৃণমূলে।
শুক্রবার রাতে প্রয়াত হন হাওড়ার সলপ এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই বারের প্রাক্তন প্রধান সুধীরচন্দ্র ঘোষ। তিনি ডোমজুড়ের তৃণমূল সভাপতিও ছিলেন। সেই খবর পেয়ে তাঁর পরিবারকে সমবেদনা জানাতে রওনা দেন রাজীব।কিন্তু ওই এলাকায় প্রবেশ করতেই এলাকাবাসী এবং তৃণমূলের কর্মীদের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়েন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক কে মীরজাফর, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দূর হঠো বলে স্লোগান উঠতে থাকে এলাকায়। শেষ পর্যন্ত অবস্থা এতটা সঙ্গীন হয়ে যায় যে, প্রয়াত উপপ্রধানের পরিবারের সঙ্গে দেখা না করেই ফিরতে হয় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কে।
প্রয়াত সুধীরচন্দ্রের ভাইপো গোপাল ঘোষ এ নিয়ে বলেন, ‘‘এটা খুব খারাপ কাজ হয়েছে। এক জন মারা গিয়েছেন অথচ সেখানেও রাজনীতি হচ্ছে। কল্যাণ ঘোষের অনুগামীরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।’’ যদিও ডোমজুড়ের বর্তমান বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ বলছেন যে তাদের বিক্ষোভ দেখানোর কোনো কর্মসূচিই ছিল না। নির্বাচনের সময় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় যে ব্যবহার করেছেন তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এই ব্যবহার পাচ্ছেন মানুষের থেকে। তিনি যদি অন্যায় করে থাকতেন তাহলে তিনি ও গ্রামবাসীদের কাছ থেকে এরকমই প্রতিক্রিয়া পেতেন। হাওড়া এখন কোন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই নেই।





