বি-টাউন অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) রহস্যময় আত্মহননের (Suicide) ঘটনায় বঙ্গ কন্যার নাম জড়ানোর পর এবার নাম জুড়ে গেল পুরুলিয়ার এক অভিজাত জমিদার পরিবারের। দীর্ঘ জেরার পর ড্রাগ পাচারের অপরাধে গ্রেফতার হলেন সেই ‘জমিদার বাড়ি’রই মেয়ে রিয়া চক্রবর্তী (Rhea Chakraborty)। আর এই ঘটনার পর হঠাৎই মিডিয়ার নজর পড়েছে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় লাগোয়া বাগমুন্ডি ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম তুন্তুড়ির (Tanturi Village) ওপর।
রিয়া চক্রবর্তী। সুশান্ত মৃত্যু কাণ্ডের পর বিগত দু-মাসে ভারতবর্ষের সবথেকে আলোচিত নাম। আর এহেন মডেল-অভিনেত্রীর শিকড় কিন্তু এ রাজ্যে প্রান্তিক জেলা পুরুলিয়ায় (Purulia)। তাঁর পূর্বপুরুষরা ছিলেন বাগমুন্ডি ব্লকের প্রত্যন্ত তুন্তুড়ি গ্রামের জমিদার। গ্রামের ১২টি মৌজার দেওয়ান ছিলেন চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যরাই। তবে সেসবই এখন অতীত। ঐতিহ্য ভূলুণ্ঠিত। ভগ্নপ্রায় দশা রিয়া চক্রবর্তীর পৈতৃক বাড়িটির।
আঞ্চলিক সূত্রে খবর, অভিনেত্রীর দাদু শিরীষ চক্রবর্তী (Shirish Chakraborty) ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ধানবাদের কোলিয়াড়িতে। রিয়ার বাবা-কাকারাও সেখানে বড় হয়েছেন। পরবর্তীকালে কর্মসূত্রে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন তাঁরা। জন্মগ্রহণ করা তো দূর, বাগমুন্ডির তুন্তুড়ি গ্রামের সঙ্গে তেমন কোনও যোগাযোগই ছিল না রিয়ার। বাবা সেনা-ডাক্তার হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেটেছে রিয়ার শৈশব। এ প্রত্যন্ত গ্রামে কি কখনও পা পড়েছে রিয়ার? জানা গেছে তিনি এসেছিলেন প্রায় তাও প্রায় ২৪-২৫ বছর আগে। তন্তুড়িতে পারিবারিক দুর্গাপুজোয়(Durga Puja festival) যোগ দিতে।
এই গ্রামে চক্রবর্তী পরিবারের দুর্গাপুজোটি তিনশো বছরেরও বেশি পুরানো। একটা সময় ছিল, যখন এই দুর্গাপুজোর সময়ে দেশে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে আসতেন পরিবারের সদস্যরাও। সেই সূত্রেই ২৪-২৫ বছর আগে বাবার ইন্দ্রনীল চক্রবর্তীর (Indranil Chakraborty) সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন রিয়া। তাঁর গ্রেফতারির খবরে কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা? তাঁদের আক্ষেপ, ‘আমার গর্ব করতাম, যে গ্রামের মেয়েটা বলিউডে গিয়েছে। ও একটি কেসে ফেঁসে গিয়েছে।’ তবে সরল সাদাসিদে মানুষগুলোর বিশ্বাস, সিবিআই (CBI) তদন্তে আসল সত্য ঠিকই বেরিয়ে আসবে। রিয়া নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।





