কলকাতা পুরনিগমের সম্পত্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ কলকাতার বেহালায়। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে যে নীল ও সবুজ বালতি বিনামূল্যে বিতরণ করার কথা, সেই বালতির বিশাল মজুত একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। কীভাবে পুরনিগমের সামগ্রী বছরের পর বছর একটি বেসরকারি জায়গায় পড়ে রইল, তা নিয়েই এখন বিতর্ক তুঙ্গে।
রবিবার সকালে বেহালার রায়বাহাদুর রোড সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমিতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার নজরে আসে, জমির ভিতরে স্তূপ করে রাখা রয়েছে বিপুল সংখ্যক নীল ও সবুজ রঙের বালতি। কাছ থেকে দেখার পর বোঝা যায়, সেগুলি কলকাতা পুরনিগমের লোগোযুক্ত বালতি। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমতে শুরু করে। পরে বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের নজরেও আনা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা জেলার এক নেতা। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ সরকারি সামগ্রী এভাবে একটি ব্যক্তিগত জমিতে পড়ে থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার পরই অভিযোগের তির ঘুরে যায় ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কৃষ্ণা সিংয়ের দিকে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ বালতি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে অন্যত্র সরিয়ে রাখা হয়েছিল। এমনও দাবি করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে ওই বালতিগুলি সেখানে এনে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেগুলি নিয়ে আর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নথি বা তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসেনি। তবুও বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট জমির সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির বক্তব্য আবার ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে। তাঁর দাবি, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে ওই বালতিগুলি সেখানে রাখা হয়েছিল শুধুমাত্র সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে। কারণ সেই সময় নাকি স্থানীয়ভাবে এত বিপুল সংখ্যক বালতি রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। পরে সেগুলি ধাপে ধাপে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করার কথা ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, জমিতে যত বালতি দেখা গিয়েছে, তার একটি অংশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সময়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ফলে বালতিগুলি বিক্রি করা হয়েছে বা অন্য কোনও উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এই অভিযোগ তিনি মানতে নারাজ।
আরও পড়ুনঃ বাংলার নতুন আবগারি নীতির আড়ালে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়*মের অভি*যোগ, রিপোর্টে উঠে এল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম! তবে কি সামনে আসতে চলেছে আরও বড় রহ’স্য?
তবে এই ব্যাখ্যা ঘিরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদি সত্যিই বালতিগুলি ভবিষ্যতে বিতরণের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়ে থাকে, তাহলে এত দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলি কেন জমিতেই পড়ে রইল? কেন স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিষয়ে আগে কোনও তথ্য জানতেন না? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণের জন্য কোনও লিখিত অনুমতি বা প্রশাসনিক নথি ছিল কি না। এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে ঘটনাটি এখন শুধুমাত্র কয়েকটি বালতি উদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এখন নজর রাখছেন তদন্তের সম্ভাব্য অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।






