‘ও বুদ্ধিজীবী লেখক ঘুমিয়ে গেলেন নাকি’, পার্থর ইস্যু নিয়ে ফের একবার তোপ রুদ্রনীলের, এবার বিজেপি নেতার নিশানায় বুদ্ধিজীবী-বিদ্বজ্জনরা

বর্তমানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বিষয় নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। সোশ্যাল মিডিয়াও এই নিয়ে সরগরম। কিন্তু বাংলার বুদ্ধিজীবীরা এখন কোথায়? তারা কেন চুপ এখন? কারোর টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নই তুললেন তারকা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। এবার বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কটাক্ষ করে কবিতা পাঠ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তা পোস্ট করলেন তিনি।

রুদ্রনীল বললেন, “ও বুদ্ধিজীবী, লেখক, কবি, ঘুমিয়ে গেলেন নাকি! ভাতা পেয়ে দাতার ভয়ে লজ্জা পাওয়া বাকি, দিচ্ছ কাকে ফাঁকি। বুদ্ধিজীবী, আপনারা নাকি বাংলার মুখ, আপনারা সব বিবেক। মানুষ নিয়ে ভাবেন নাকি, তা হোক এগারোর রিমেক। পড়ছে মনে? এগারোতে। এখন মুখ কুলুপ এঁটে ওড়ান কিসের ফানুস। বাংলার মা বিস্মিত আজ মাটি জুড়ে লজ্জা, মানুষ চিনছে লুটেরাদের, বাংলার শরশয্যা, ও বুদ্ধিজীবী, ও বুদ্ধিজীবী চোরের মায়ের বড় গলা, রোজ মঞ্চে। চোরের মায়ের বড় গলা রোজ বলে যায় মিথ্যে। চোর জেলে যায়। মা তবু চুপ। মা শুধু চায় জিততে। বুদ্ধিজীবী বলছে মানুষ আপনারা সব বিক্রি হয়ে গেছেন। ভাতা, চেয়ার, খয়েরি খামে মত্ত হয়ে আছেন। ও বুদ্ধিজীবী আর কত লুট হলে পড়ে খুলবে তুমি মুখ”।

এটাই প্রথমবার নয়। এর আগেও পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়া নিয়ে এমনই কবিতার মাধ্যমে রাজ্য সরকারকে তোপ দেগেছিলেন রুদ্রনীল। অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের টালিগঞ্জের ফ্ল্যাট থেকে ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হওয়ার পর বিজেপি নেতা বলেছিলেন, “২১ জুলাই মঞ্চ থেকে বেচল দিদি মুড়ি, ২২ জুলাই অর্পিতাদের ফ্ল্যাটে কোটি কুড়ি। মুড়ি বেচার টাকা নাকি চাকরি চুরির টাকা, বলি ও দিদিভাই জবাব তো দিন, মালিক তো আপনি একা। ২০ কোটির নোটের পাহাড় দেখল বঙ্গবাসী, অর্পিতাদের উন্নয়নে আমার দিদি খুশি, তৃণমূলের দুর্গাপুজোয় অর্পিতারাই মুখ, নেতার কাছের মানুষ হলেই পাবে অপার সুখ। লজ্জা, ঘেন্না, শিকেয় তুলে লুটছে অবিরত”।

বলে রাখি, আজ, শুক্রবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে শারীরিক চিকিৎসার জন্য জোকার ইএসআই-তে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন হাসপাতালে পৌঁছনোর পর শুরু হয় এক নাটক। হাসপাতালে পৌঁছে কান্নায় ভেঙে পড়েন অর্পিতা। গাড়ি থেকে নামতেই চাইছিলেন না তিনি। গাড়ি থেকে নামার সময় নীচে বসে পড়েন তিনি।

এরপর দুই ইডির মহিলা আধিকারিক তাঁকে টেনে তোলেন ও হাসপাতালের ভিতর নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। অন্যদিকে, হুইল চেয়ারে করে হাসপাতালে ঢোকেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এদিন হাসপাতালে ঢোকার সময় সংবাদমাধ্যমের সামনে গ্রেফতারির পর থেকে প্রথমবার মুখ খুলে তিনি বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। ষড়যন্ত্র কারা করেছেন, জানতে পারবেন”।

RELATED Articles