বাংলা চলচ্চিত্রের একজন দক্ষ কৌতুক চরিত্রাভিনেতা সমীর মুখার্জি (Samir Mukherjee)। কম উচ্চতার ছোটখাটো এই মানুষটার মুখে সব সময় লেগে থাকতো হাসি। মানুষকে হাসানোই ছিল তার কাজ। মূলত কমেডিয়ান হলেও অনেক সিরিয়াস, মিচকে খলনায়কের চরিত্রেও দেখা গিয়েছে তাকে। সিনেমা ছাড়াও থিয়েটার দূরদর্শনের দাপিয়ে কাজ করেছেন এই অভিনেতা (Samir Mukherjee)।
সত্যজিৎ রায় থেকে তরুণ সিনহা বড় বড় পরিচালকদের প্রিয় ছিলেন তিনি। কাজ করেছেন সকলের সাথে। ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি পরিচিত ছিলেন সোমু কাকু (Samir Mukherjee) বলে। তার অভিনয় জগতে আসার ইচ্ছে ছিল ছোটবেলা থেকে। অল্প বয়স থেকে বিভিন্ন নাট্য দলে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্র তার আগমন তরুণ মজুমদারের সংসার সীমান্তে-তে অভিনয় করে। তরুণ মজুমদারের আরও অনেক ছবি ফুলেশ্বরী, দাদার কীর্তি, মেঘমুক্তি, আলো এসব ছবিতে অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও বাজিমাত করেছেন তিনি (Samir Mukherjee)। ব্যক্তিগত জীবনে তাদের সম্পর্ক ছিল বেশ ঘনিষ্ঠ।
সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে ছবিটি সমীরবাবুর (Samir Mukherjee) ক্যারিয়ারের সব থেকে উল্লেখযোগ্য ছবি। এই ছবিতে শিল্পমন্ত্রীর চরিত্র তার অভিনয় আজও দর্শকরা মনে রেখেছেন। সিনেমা ছাড়া বহু থিয়েটার, যাত্রাপালাতে অভিনয় করতেন তিনি। টেলিভিশনে বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল সমীর মুখার্জির (Samir Mukherjee)। একজন ঘরোয়া মানুষ ছিলেন তিনি। স্ত্রী মীরা মুখোপাধ্যায়, পুত্র কুন্তল, কন্যা অর্পিতা, পুত্রবধূ অন্তরাকে নিয়েছিল তার জমজমাট সংসার।
অভিনয়ের পরে বাকি সময়টুকুনি তিনি সংসারে দিতেন। বেহালায় তার বাড়ি। বেহালা অঞ্চলে প্রায়শই তাকে দেখা যেত সাইকেলে করে বাজার করতে। একজন গুণী অভিনেতা হয়েও খুবই সাদামাটা জীবন কাটাতেন তিনি। শেষ জীবনের স্মৃতি ভ্রষ্ট হয়েছিল তার। ১৫ ই সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে বার্ধক্যজনিত রোগে নিজের বাসভবনেই প্রয়াত হন তিনি (Samir Mukherjee)।
প্রচুর সিনেমায় কাজ করলেও তাকে (Samir Mukherjee) মানুষ ভুলে গেছে। তাকে বেশিরভাগ সময় ছবিতে ছোট চরিত্র করতে হয়েছে। বেশিরভাগ ছবিতেই কম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কাজ করেছেন। অভিনয়টাই তার কাছে সব, চরিত্র গুরুত্বহীন। যে যা চরিত্র দিয়েছেন তাই করেছেন হাসিমুখে। বেঁচে থাকতে প্রাপ্য সম্মান বা মর্যাদা কোনটাই পাননি এই গুণী অভিনেতা।





