‘জনপ্রিয়তার দিক থেকে উত্তমবাবুর কাছাকাছি কেউ যেতে পারেনি এখনও’, মহানায়ককে নিয়ে মনের কথা জানালেন শর্মিলা ঠাকুর

ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কিংবদন্তী অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore)। ১৯৫৯ সালে পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের অপুর সংসারের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন তিনি। সেই ছবি মানুষের মনে দাগ কেটে রয়ে গেছে। অপর্ণা চরিত্রে শর্মিলার সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারপর ১৯৬০ সালে দেবী সিনেমায় দয়াময়ীর চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় তাঁকে। এরপর শেষ অঙ্ক, নির্জন সৈকতে, বর্ণালী, ছায়া সূর্যের মতো বহু সিনেমায় কাজ করেন শর্মিলা। এরপরেই বলিউড থেকে ডাক আসে তার। বলিউডের ছবির অফার পান শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore)। ১৯৬৪ সালে মুক্তি পায় শাম্মি কপুর এবং শর্মিলা অভিনীত কাশ্মীর কী কলি। শক্তি সামন্ত পরিচালিত ছবিটি সুপারহিট হয়। সেখান থেকেই শর্মিলা ঠাকুরের বলিউড জগতে পথ চলা শুরু।

সে সময় বহু পরিচিত জুটি ছিল উত্তম-শর্মিলা। ‌১৯৬৬ সালে নায়ক ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু করে এই জনপ্রিয় জুটি। পরবর্তীতে এই জুটি উপহার দিয়েছে দর্শকদের মনে রাখার মত একাধিক ছবি। তালিকায় রয়েছে ‘অমানুষ’, ‘আনন্দ আশ্রম’, ‘শেষ অঙ্ক’, ‘কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী’, ‘যদু বংশ’র মতো সেরা ছবি ৷

সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি সাক্ষাৎকারে উত্তম কুমারের সাথে কাজ করার স্মৃতি স্মরণ করেন শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore)। তার ক্যারিয়ারের প্রথম ছবি থেকে শুরু করে কিভাবে উত্তম কুমারের সাথে কাজ করেছেন সেসব নিয়ে কথা বলেছেন সাক্ষাৎকারে। শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore) বলেছেন, ‘”আমি আর সৌমিত্র একসাথে ক্যারিয়ার শুরু করি অপুর সংসার ছবি দিয়ে। সেখানে ওরও প্রথম ছবি ছিল আমারও প্রথম ছবি। তারপর আমাদের খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। ওনার চলে যাওয়া আমার কাছে হৃদয় বিদারক।‌ আমি ওনাকে খুব মিস করি। সৌমিত্রর করা আবৃত্তি মন ছুয়ে যাওয়ার মতো। ওর কোন আবৃত্তি আমাকে এখনো বহু মানুষে পাঠায়। মন দিয়ে শুনি কি দারুন।‌ সৌমিত্রের সাথে আমার খুব একটা আলাদা ঘনিষ্ঠ রিলেশন ছিল”।

উত্তম কুমারের সঙ্গে শর্মিলা ঠাকুরের (Sharmila Tagore) সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন সাক্ষাৎকারে। সম্প্রতি বাংলাদেশের শর্মিলা ঠাকুরের (Sharmila Tagore) এক সাক্ষাৎকারে তিনি মুখ খুলেছেন উত্তম কুমারকে নিয়ে। শর্মিলা ঠাকুরের কাছে উত্তম কুমার কি ছিল তা জানিয়েছেন এই সাক্ষাতকারেই। তিনি বলেছেন, “উত্তম কুমারের সাথে সম্পর্কটা আমার অনেকটা ফরম্যাল ছিল। নায়ক দিয়ে আমি ওনার সাথে কাজ শুরু করি। তারপর বহু ছবি করেছি। কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী করেছি, শেষ অঙ্ক, যদু বংশ বহু ছবি করেছি। আমি ওনাকে খুব রেসপেক্ট করতাম”।

উত্তম কুমারের সাথে শুটিং প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore) জানিয়েছেন, ‘যখন আমরা অমানুষ সিনেমার শুটিং করেছি একমাস সুন্দরবনে থেকেছিলাম। একটা কাঠের ঘরে, সেটা একটা বানানো ঘর টেম্পোরারি। সেখানে মশারির ভেতরে শুতাম আমরা, পাখা চলতো খুব কম ভোল্টেজে। খুব গরম ছিল সে সময়। এপ্রিলের সময় কালবৈশাখী শুটিং করা খুব ডিফিকাল্ট হয়ে যাচ্ছিল। রাত্রিবেলা দেখতাম ওই কাঠের ঘরের উপর দিয়ে ইঁদুর হেঁটে বেড়াচ্ছে। সাবান বাথরুমে ঢাকা থাকতো পরের দিন দেখতাম সে সাবান শেষ। ইদুরে খেয়ে নিয়েছে। সব পচে যেত খাবার, শুধুমাত্র আলুটা থাকতো। ডাল ভাত মাছ ব্যাস এই ছিল। সবজি রাখাটা সম্ভব হচ্ছিল না পচে যাওয়ার জন্য। এক মাসটা অতিবাহিত করা খুব ডিফিকাল্ট ছিল। সে সময় উত্তম বাবু আমাদের খুব ইন্সপায়ার করতেন, গান করতেন, আড্ডা মারতেন সেই আউটডোরটা আমার স্মরণীয় হয়ে রয়েছে উত্তম বাবুর সঙ্গে।’

অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর (Sharmila Tagore) আরও জানান, “কলঙ্কিনী কঙ্কাবতীতে উত্তম বাবু ডিরেকশন দিয়েছিলেন, তখন ওর সাথে কাজ করে দেখলাম কত জানেন উনি। ফিল্ম মেকিং টাও খুব ইন্সপায়ারিং। ওনার মত পপুলার হিরো এখনো আর নেই কেউ। জনপ্রিয়তার দিক থেকে উত্তমবাবুর কাছাকাছি কেউ যেতে পারেনি এখনও পর্যন্ত”।

RELATED Articles