তালসারির সমুদ্রে শ্যুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু এখনো মানতে পারছেন না তাঁর অনুরাগী এবং সহকর্মীরা। এই অকাল মৃত্যু ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠে আসছে। শ্যুটিং চলাকালীন নিরাপত্তার অভাব ছিল কি না, সেই নিয়েই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে। অনেকেই মনে করছেন, এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকত। ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। পাশাপাশি শ্যুটিং ইউনিটের গাফিলতি নিয়েও অভিযোগ উঠছে। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে।
এই ঘটনার পর সরব হয়েছেন সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, এই প্রোডাকশন হাউসটি নাকি সরকার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাই তদন্তে কোনও রকম গাফিলতি বা চাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না। তমলুক হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট করে জানান, শুধু শেষকৃত্য নয়, পুরো ঘটনার শেষ পর্যন্ত নজর রাখবেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরেও গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সত্য সামনে আনা খুব জরুরি।

অন্যদিকে, শ্যুটিংয়ের সময় ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়েও একাধিক অসংগতি সামনে এসেছে। ধারাবাহিকের পরিচালক ও সহ অভিনেতারা দাবি করেছেন, শ্যুটিং চলাকালীনই রাহুল জলে ডুবে যান। কিন্তু রাহুলের ম্যানেজারের বক্তব্য একেবারেই আলাদা। তিনি জানিয়েছেন, শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুই ভিন্ন তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কেন এমন বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ঘটনায় কার গাফিলতি ছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীঘা ও তালসারিতে শ্যুটিংয়ের জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, সেই সময় সমুদ্রে ড্রোন দিয়ে শ্যুটিং চলছিল। তাঁদের কথায়, রাহুল ও নায়িকা শ্বেতা জলে নামার সময়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমুদ্রে নামার কোনও দৃশ্যই ছিল না। এই বিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, সমুদ্রের ধারে শ্যুটিং হওয়া সত্ত্বেও লাইফগার্ড বা জরুরি চিকিৎসা টিম কেন ছিল না।

আরও পড়ুনঃ ৬০০ কোটির সাইবার*জাল! নিউ টাউনে গ্রেফ*তার শিল্পপতি পবন রুইয়া! তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্য*কর তথ্য!
রাহুলকে সমুদ্র থেকে তোলার পরও তিনি জীবিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবুও কেন দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হল না, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে তমলুক হাসপাতাল থেকে তাঁর মরদেহ কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। বিজয়গড়ের বাড়িতে পৌঁছলে সেখানে সহকর্মী ও বন্ধুদের ভিড় দেখা যায়। আবির চট্টোপাধ্যায়, গৌরব চক্রবর্তী, ঋদ্ধিমা, রূপম ইসলামসহ অনেকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকলের চোখে ছিল শোকের ছাপ। এই ঘটনায় তদন্তের দাবিতে চাপ আরও বাড়ছে।





