ফর্ম-৬ ঘিরে তুমুল সংঘর্ষ! নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে মুখোমুখি তৃণমূল-বিজেপি! মারামা*রি থেকে ভাঙচু*রে চরম উত্তেজ*না!

নির্বাচনের আবহে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার সেই উত্তাপ ছড়াল খোদ নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে। সাধারণ দিনের মতো শুরু হলেও, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যেখানে দুই রাজনৈতিক শিবিরের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। ঘটনাস্থলে ভিড় জমতে শুরু করে এবং কৌতূহলী মানুষের নজর পড়ে সেই দিকেই।

ঘটনার সূত্রপাত ফর্ম-৬ (Form 6) নিয়ে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের দাবি, এক ব্যক্তি মাথায় তিলক কেটে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে প্রায় ৪০০টি ফর্ম-৬ নিয়ে অফিসে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর তাঁরা সরাসরি ওই ব্যক্তির গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ধর্নায় বসেন। পরিস্থিতি তখনও নিয়ন্ত্রণে থাকলেও উত্তেজনা বাড়ছিল ধীরে ধীরে।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তর কলকাতা থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও সেখানে পৌঁছে যান। পুলিশি ব্যারিকেডের দু’পাশে দুই পক্ষের সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। স্লোগান, বিক্ষোভ সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাঁদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তৃণমূল কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছেন।

আরও পড়ুনঃ “মাওবাদ এখন বিলুপ্তির পথে, অস্ত্র ছাড়লেই মিলবে মূলস্রোতে ফেরার সুযোগ” উন্নয়ন ও কড়া নিরাপত্তা নীতির জোরে কয়েক দশকের সংঘাত শেষে ‘রেড করিডর’ ভেঙে দেশের বড় সাফল্যের দাবি অমিত শাহের!

বিকেলের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে মোড় নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়, যা দ্রুত মারামারির রূপ নেয়। বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, তাঁদের সমর্থকদের বাইক ভাঙচুর করেছে বিজেপি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও, যারা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এই ঘটনার আগের দিনই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ফর্ম-৬ ব্যবহার করে বাইরের রাজ্যের ভোটারদের নাম তোলা হচ্ছে। তাঁর দাবি ছিল, এই প্রক্রিয়ায় বিহার ও উত্তরপ্রদেশের নাম যুক্ত হচ্ছে ভোটার তালিকায়। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিও জানান। সেই অভিযোগের পরদিনই এমন ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

RELATED Articles