শংকর চক্রবর্তী (Shankar Chakraborty), এখন একাই থাকেন হাইল্যান্ড পার্কের ফ্ল্যাটে। দেড় বছর আগে স্ত্রী চলে গিয়েছেন, তারপর ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরেছেন অভিনেতা। তবে বারবার সাক্ষাৎকারে স্ত্রীয়ের স্মৃতি হাতড়েছেন। কেমন ছিল অভিনেতা শংকর চক্রবর্তীর প্রেম জীবনের শুরুটা। অভিনেতার স্ত্রী আগে তিনি, প্রেমিকা ছিলেন সোনালী চক্রবর্তী। বরাবর শংকর চক্রবর্তীর (Shankar Chakraborty) পাশে দাঁড়িয়েছেন।
তখন নামডাক হয়নি অভিনয় জগতে। প্রথম দিকটা কেমন ভাবে চলত সেকথা বলতে গিয়ে শংকর চক্রবর্তী (Shankar Chakraborty) জানিয়েছেন, “বিয়ে যখন করেছি তখন তেমন কিছু ছিল না। একটা, দুটো নাটক করতাম, থিয়েটার করতাম উৎপল দত্তের দলে। আমার গুরু যার কাছে আমি হাঁটাচলা শিখেছি। তার সাথে পাশে দাঁড়িয়ে অভিনয় করেছি। সেখান থেকে টাকা পাওয়া যেত না। ওই কল শোতে ১০০ করে টাকা দিত। সেটাও আমার কাছে অনেক ছিল বহুদিন আমি ছাতু খেয়ে দিন কাটিয়েছি। রবীন্দ্রভারতীতে পড়তাম, আট আনার ছাতু খেয়ে টালিগঞ্জে কাজ করতে এসেছি।”
রবীন্দ্রভারতীর কথা উঠলেই, সোনালী চক্রবর্তীর কথা উঠবে তা খুবই প্রাসঙ্গিক। এখন স্ত্রীকে হারিয়ে বারবার সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে শংকর চক্রবর্তীর (Shankar Chakraborty)। তিনি বলেছেন, ” রবীন্দ্রভারতীতে সোনালীর সাথে আলাপ হল। সোনালী প্রচুর নাচের টিউশনি করতো। ও যা টাকা পেত সব আমাকে দিয়ে দিত। ভালো জামা কাপড় কিনে দিত, ভালো সেলুনে নিয়ে যেত সে সময় সব খরচ ওই দিত। তখন কষ্টের মধ্যে চলতে হয়েছে। তারপরে চাকরি পেয়েছি। আমাকে ভদ্রলোক করেছে। পেটের জন্য সিনেমা হলের টিকিট ব্ল্যাক করেছি। সেখান থেকে আমাকে ভদ্রলোক করেছে সোনালী। আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।”
কাজের ফাঁকে স্ত্রীকে সময় দেওয়া হয়নি, সেই নিয়ে এখনো আফসোস করছেন। শেষবার সোনালী চক্রবর্তী পুরী ঘুরতে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু নিয়ে যেতে পারেননি। আজও আফসোস তাড়িয়ে বেড়ায় শংকর চক্রবর্তীকে (Shankar Chakraborty)। স্ত্রীয়ের শেষ জীবনের কথা মনে করে শংকর চক্রবর্তী বলেন, “আরো হয়তো বেশ কিছু ভালো সময় আমরা একসাথে কাটাতে পারতাম। সেই সময়টা হয়তো দেওয়া হয়নি। ও ভীষণ ঘুরতে ভালোবাসতো। ওর যখন ভীষণ শরীর খারাপ তখনও বলল চল না একটু পুরী যাই। কিন্তু তখন নিয়ে যাওয়ার মত অবস্থা ছিল না। সেটা আফসোস রয়ে গেছে। এত ঘুরতে ভালবাসত। কত মানুষ বিদেশে যাচ্ছে আমি টাকা নষ্ট করেছি প্রচুর। গাড়ির নেশা ছিল, ছয়মাসে গাড়ি কিনেছি। সেটা আফসোস রয়েছে আমি অনেক কিছু করতে পারতাম, অনেক জায়গায় যেতে পারতাম। বন্ধুদের সাথে পুরী যাওয়ার কথা এখন খারাপ লাগছে। যে এতবার বলেছিল যাবে, এবারে আমি যাচ্ছি একা। মেয়ে বলল কতদিন আর এরকম ভাবে থাকবে, ঘুরে এসো।”
অল্প বয়সে বাড়ির প্রতি মন থাকে না, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বেশি সময় কাটিয়েছেন, সংসারে কিছুটা কম সময় দিয়েছেন, এ কথা নিজেই স্বীকার করলেন শংকর চক্রবর্তী (Shankar Chakraborty)। জানান, “এখন আর বাইরে ভালো লাগে না কাজ শেষ হয়ে গেলে বাড়ি চলে আসি। তখন কাজের পরে বন্ধুরা মিলে এখানে বসি, ওখানে বসি বাড়ি ফিরতে দেরি হত। এখন মনে হয় কেন? মনে হয় তাড়াতাড়ি ফিরলে আরো কিছুটা ভালো সময় কাটাতে পারতাম। এখন আর ওগুলো ভালো লাগে না, বাড়ি চলে আসি। ও চলে যাওয়ার পরে কেমন একটা হল, ঘুমাতেই থাকছি, কাজ না থাকলে উঠতামই না। খাওয়া-দাওয়ার কোন ঠিক ছিল না। ড্রিঙ্ক করা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। এখন আবার সেসব কাটিয়ে উঠেছি থিয়েটারের সময় দিয়েছি। কিন্তু বাড়িতে ফিরলে, ওই ঘরটায় গেলে, ভীষণ একা লাগে। সে নেই ভীষণ খারাপ লাগে।”





