“বাংলার স্বার্থকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিজেপির উদ্যোগ এবং আন্তরিকতার অভাব….”, এই বলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। এর দু’সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই তৃণমূলের সভামঞ্চে দেখা মিলল অভিনেত্রীর। তিনি কী তবে এবার ঘাসফুল শিবিরেই ঘাঁটি গড়লেন, এখন এই প্রশ্নই উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
আজ, সোমবার বাসন্তী মসজিদবাটিতে ছিল তৃণমূলের দলীয় অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের সভামঞ্চে দেখা গেল টলিপাড়ার এই বিতর্কিত অভিনেত্রীকে। শুধু তাই-ই নয়, এদিনের এই অনুষ্ঠানে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদও জানান শ্রাবন্তী। এদিনের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন শওকত মোল্লা, সুব্রত মণ্ডল, পরেশরাম দাস, প্রমুখ।
এদিন সকলের সামনেই শ্রাবন্তী বলেন, “আমি বাংলার জন্য কাজ করতে চাই। বাংলারই মেয়ে আমি। মমতাদি’কে অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আমায় আপন করে নিন। আমি আপনাদের জন্যই কাজ করতে চাই”।
চমকের এখানেই শেষ নয়। এদিন শ্রাবন্তীকে দলীয় উত্তরীয় পরিয়ে দলের তরফে সম্মানও জানানো হয়। এর জেরে বেশ স্পষ্ট যে বিজেপি ছাড়লেও রাজনীতি ছাড়ছেন না অভিনেত্রী। এবার তিনি পথ চলা শুরু করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছত্রছায়ায়।
শ্রাবন্তী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি অভিনেত্রী। তবে বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল জানান, “শ্রাবন্তী এখন তৃণমূলে, অন্য কোনও দলে নেই”। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে বেশ তোলপাড় শুরু হয়েছে।
একুশের নির্বাচনের আগে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। বেহালা পশ্চিম থেকে তৃণমূলের পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটেও লড়েন তিনি। কিন্তু জিততে পারেন নি। আর ভোটে হারার পরই যেন বিজেপি মোহ ভঙ্গ হয় অভিনেত্রীর। তাঁকে বিজেপির কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। এরই মধ্যে অভিনেত্রীর জন্মদিনে তাঁকে উপহার পাঠান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জন্য দিদিকে ভালোবাসা জানান শ্রাবন্তী। সেই সময় থেকেই জল্পনা তৈরি হচ্ছিল যে শ্রাবন্তীও হয়ত বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলেই ভিড়বেন। আর আজ সেই জল্পনাতে সিলমোহর পড়ল।





