রাজনৈতিক মঞ্চে উত্তাপ নতুন কিছু নয়, তবে ভোটের আগে সেই উত্তাপ যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ আর সরাসরি হুঁশিয়ারিতে গড়ায়, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই নিয়ে চর্চা বাড়ে। খড়্গপুর সদরে সাম্প্রতিক এক সভা ঘিরে ঠিক তেমনই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বক্তব্যের ভাষা, ভঙ্গি সব মিলিয়ে ফের একবার আলোচনায় উঠে এলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
ভোটের প্রচারে গিয়ে যেন অনেকদিন পর পুরনো আগ্রাসী মেজাজে দেখা গেল তাঁকে। দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থাকার পর প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই মাঠে নেমেছেন তিনি। আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়েই পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। এখান থেকেই শুরু হয় বিতর্কের সূত্রপাত।
সভা মঞ্চ থেকে তিনি অভিযোগ করেন, এলাকার এক আইসি নাকি বিজেপি কর্মীদের থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন তৃণমূলের সঙ্গে কাজ না করলে গুলি করে দেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গেই তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “তোর বাপের গুলি? কতগুলো গুলি আছে?” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্টতই উত্তেজনার পারদ চড়ে যায়। শুধু তাই নয়, তিনি আরও বলেন, “গুলি দেখেছো? আওয়াজে প্যান্ট ভিজে যাবে,”যা নিয়ে ইতি মধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
এরপর নিজের পুরনো রাজনৈতিক সময়ের কথাও টেনে আনেন তিনি। দাবি করেন, একসময় তাঁকেই মানুষ জিতিয়েছিল এবং তিনি নাকি এলাকায় সমস্ত ‘গুন্ডাদের হিসাব’ সমান করেছিলেন। ভবিষ্যতেও সেই একইভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর কথায়, “আগামিদিনে এমন হিসেব করব, হিসেব মেলাতে পারবে না।” এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে, ভোটের আগে কি ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি?
আরও পড়ুনঃ Chingrighata Metro : উৎসব-নির্বাচনের অজুহাতেই কি থমকে উন্নয়ন? চিংড়িঘাটা মেট্রো ইস্যুতে রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎ*সনা সুপ্রিম কোর্টের!
শুধু পুলিশ নয়, খড়্গপুরের এক রেল আধিকারিকের বদলি নিয়েও সরব হন তিনি। দাবি করেন, ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ ছিল এবং রেলকর্মীরাও নাকি তটস্থ ছিলেন। তাঁর কথায়, বোঝানোর চেষ্টা করেও কাজ না হওয়ায় শেষমেশ দ্রুত বদলি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এক সভার একাধিক মন্তব্য এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে, আর ভোটের মুখে এই ধরনের ভাষা কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র।





