এই বছরের দুর্গাপুজোর পরিবেশ অন্যান্য বছরের তুলনায় একেবারেই আলাদা। নেই জাঁকজমক, মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শক, রাস্তায় মানুষের ঢল, আলোকের রোশনাই। শুধু বাংলা নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই দুর্গাপুজোর ছবি একইরকম। নেপথ্যে করোনা ভাইরাস। তাই দশমীর বিদায়বেলায় সকলেই হয়ত মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা রেখেছে যে এইরকম পুজো যেন মানুষকে আর দেখতে না হয়।
অতিমারির কারণে এই বছর দুর্গাপুজোতে ছিল হাজার এক নিয়ম। অঞ্জলি, খাওয়াদাওয়া, ঠাকুর দেখা, সবেতেই পড়ল ফাঁক। বাদ যায়নি কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোগুলোও। এরই মধ্যে অন্যতম হল বালিগঞ্জ প্লেসের চট্টোপাধ্যায় বাড়ির দুর্গাপুজো। প্রত্যেক বছরই এই পুজো নিয়ে আলাদাই উত্তেজনা দেখা যায় টলিপাড়ার তারকাদের। কিন্তু এই বছর করোনা পরিস্থিতির জেরে এই আনন্দেও ভাঁটা। তবু পুজোর দিনগুলিতে কি আর মন খারাপ করে থাকা যায়? তাই নিজের পরিবার, স্বামী ও পুত্রদের নিয়েই দুর্গাপুজোয় আনন্দে মেতে উঠেছিলেন অভিনেত্রী ও সঞ্চালক সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। দুই ছেলে আকাশ ও আদিদেবকে নিয়ে পুজো দিব্যি কাটালেন সুদীপা ও স্বামী অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়।

বাড়ির পুজো, তাই সব দায়িত্ব সুদীপার উপরেই বর্তায়। এর মধ্যেও আত্মীয়দের সময় দেওয়া থেকে ছবি তোলা, কিছুই বাদ পড়েনি তার। পুজোর সময়ের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন সুদীপা।
সোমবার ছিল দশমী। মায়ের বিদায়ের দিন। এদিন লাল পেড়ে সাদা গরদের শাড়িতে যেন সুদীপাকেই মা দুর্গার আর এক রূপ দেখাচ্ছিল। এদিন অগ্নিদেবের পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবী। তাদের বড় ছেলে আকাশও পরেছিলেন পাঞ্জাবী ও ছোটো ছেলে আদিদেবের পরনে ছিল সাদা ধুতি পাঞ্জাবী। এদিন মাকে বিদায় জানানোর আগে নিজেই মাকে বরণ করেন সুদীপা। আবার একটা বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। তাই নিজের অজান্তেই চোখ ভিজে এসেছিল সুদীপার। চোখের জল যেন বাধ মানছিল না। না চাইলেও ভারাক্রান্ত মনে মাকে বিদায় জানালেন সুদীপা। মায়ের বরণ, সিঁদুর খেলা সবই হল, কিন্তু তবুও কোথাও যেন মনের এক কোণে বিষাদের সুর বেজে উঠল।





