“মাহি, পাক্কা না, বহত টাইম হ্যায় না হামারে পাস?” মহেন্দ্র সিং ধোনির বায়োপিকে ধোনিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তাঁর প্রথম প্রেমিকা। তারপরে যখন প্রেমিকা পথ দুর্ঘটনায় মারা যায় সে ধোনিকে আমরা রাস্তার মাঝখানে বসে কাঁদতে দেখেছিলাম। সেদিন ওখানে ধোনির ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন সুশান্ত সিং রাজপুত (Sushant Singh Rajput)। আজকে তিনিই সময় দিলেন না। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলেন বলিউডের এই তরুণ প্রতিভা। রবিবার সকালে বান্দ্রার ফ্ল্যাটে তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়, পুলিশ সেই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে। ফ্ল্যাটে পাওয়া কাগজপত্র থেকে জানা গিয়েছে, তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই কারণেই তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে পুলিশের তরফ থেকে। যদিও এই বিষয়ে তার বান্ধবী অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী ও পরিবার-পরিজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কিছুক্ষণ আগে পাওয়া খবরে রীতিমত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে পুরো বলিউড। কেউ কী বলবেন সেটাই বুঝে পাচ্ছেন না। কেন এত কম বয়সে সুশান্তের (Sushant Singh Rajput) মত একজন প্রতিভা আত্মহননের পথ বেছে নিলেন তা কিছুতেই বুঝতে পারছেন না কেউ। কিছুদিন আগে সুশান্ত ও বরুণ ধাওয়ানের ম্যানেজার দিশা সলিয়নের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনা নিয়ে সুশান্ত (Sushant Singh Rajput) টুইটও করেছিলেন। কিন্তু তার কয়েকদিন পরেই তিনি নিজে যে নিজেকে শেষ করে দেবেন এ কথা এখনো কেউ মানতে পারছেন না।
গোটা নেটদুনিয়া ভরে উঠছে এই বার্তায় যে, কেন আরও লড়াই করলেন না তিনি? যে অভিনেতা মহেন্দ্র সিং ধোনিকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছিলেন তিনি এত সহজে হার মানলেন জীবন যুদ্ধ থেকে?
সুশান্ত (Sushant Singh Rajput) নিজে যে নিজের জীবনে অনেক লড়াই করে এই জায়গায় এসেছিলেন। প্রখর মেধাবী সুশান্ত অল ইন্ডিয়া জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় সপ্তম স্থান অধিকার করেছিলেন। চাইলেই তিনি বড় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে জীবনটাকে সুনিশ্চিত চাকরির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু সেখানে নিজের প্যাশনটাকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে স্টার প্লাসে ‘কিস দেশ মে হ্যায় মেরা দিল’ সিরিয়াল দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু হয় তাঁর। এরপরে জি টিভির ‘পবিত্র রিস্তা’ সিরিয়ালে তাঁর অভিনয় মন জয় করে নেয় সবার। পাটনা-র এই ছেলে যে বলিউডে জায়গা করে নেবে তা তখনও ভাবেনি কেউ। এরপর ২০১৩ সালে ‘কাই পো চে’ দিয়ে বলিউডে পা রাখলেন সুশান্ত। এরপরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির এই যুবক তাঁর বাঙ্ময় চোখ আর মিষ্টি হাসিটা দিয়ে কত যে মেয়ের মন জয় করে নিয়েছিলেন তার কোন ইয়ত্তা নেই। সেই হাসি আজকে সকালে এক লহমায় নিভে গেল। মহেন্দ্র সিং ধোনির বায়োপিকে তিনি তাঁর জাত চিনিয়েছিলেন। লোকে তাকে পরে সুশান্ত হিসেবে কম, ধোনি হিসাবে বেশি চিনত। তিনি বাঙ্গালীদের হয়তো আরেকটু কাছের মানুষ ছিলেন কারণ সুশান্তকে আমরা ব্যোমকেশ বক্সি রূপেও পেয়েছি ২০১৫ সালে ‘ডিটেকটিভ ব্যোমকেশ বক্সি’ সিনেমায়।
তার শেষ দুটো ছবি বক্স অফিসে সেরকম হিট হয়নি। সেই জন্যেই কি অবসাদের এমন মারাত্মক পথ বেছে নিলেন সুশান্ত, এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে আপামর ভারতীয়দের মনে।
‘বহত টাইম’ আর সত্যিই দিতে পারলেন না রিল লাইফের ধোনি। চলে গেলেন চিরঘুমের দেশে।





