প্রথম ধারাবাহিক ‘সিঁদুর খেলা’ দিয়েই বাজিমাত। আর এখন মঞ্চে উঠে ঢাক বাজানোতেও বাজিমাত করছেন তিনি। ঠিক ধরেছেন, ‘যমুনা ঢাকি’ ধারাবাহিকের যমুনা অর্থাৎ শ্বেতা ভট্টাচার্যকে নিয়েই কথা হচ্ছে। এর আগে শুটিং-এ ব্যস্ত থাকায় সেভাবে সময় পেতেন অন্যকিছুর জন্য। কিন্তু এখন অবশ্য হাতে অনেক সময়। লকডাউন যে, শুটিং পাড়ায় তালা। এরই মাঝে এক বাংলা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটালেন অভিনেত্রী।
শুটিং ফ্লোরে শুটিং না হল, এখন শুরু হয়েছে ‘শুট ফ্রম হোম’। এই বিষয়ে শ্বেতার মত, “বাড়িতে শুটিং করাটা কিন্তু বেশ মজার, ভাল লাগছে। গত বছর কোমরে চোট পাওয়ার পরেও এ ভাবে শুট করেছিলাম। লকডাউনে ঘরে বসে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসে। বাড়ি থেকে শুটিং করায় সাউন্ড নিয়ে খুঁতখুঁতানি রয়েছে। তবে পুরনো এপিসোড দেখানোর চেয়ে এটা ঢের ভাল”।
আরও পড়ুন- ‘মৌ বৌদি’র সঙ্গে পরিচয় হয়েছে? রূপের ঝলকে সকলকে ঘায়েল করতে ওয়েব দুনিয়ায় ‘ধামাকাদার এন্ট্রি’ মনামীর
মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই ভরতনাট্যম শিখছেন তিনি। স্বপ্ন দেখতেন নৃত্যশিল্পী হওয়ার। এক ডান্স রিয়্যালিটি শো-তে অংশও নেন শ্বেতা। কিন্ত্য অসুস্থতার কারণে সরে আসতে হয়।
তখনই পরিচালক রাজ চক্রবর্তী তাঁকে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবিতে লিড রোলের অফার দেন। কিন্তু তখন সবেমাত্র ক্লাস নাইনে পড়ায় সেই অফার গ্রহণ করেননি তিনি। তবে এরপর ‘লে ছক্কা’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘প্রেম আমার’ ছবিতে টুকটাক কাজ করেছেন। ‘লাভ কানেকশন’ ছবিতে দ্বিতীয় লিড চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে।
এরপর প্রথম ধারাবাহিক ‘সিঁদুর খেলা’র অফার। সেটা আর হাতছাড়া করেননি শ্বেতা। প্রথম ধারাবাহিকের পর একের পর এক ধারাবাহিক ‘ভালোবাসা ডট কম’, ‘তুমি রবে নীরবে’, ‘জড়োয়ার ঝুমকো’, ‘কনক কাঁকন, ‘যমুনা ঢাকি’ পরপর ধারাবাহিক। এমনকি, মুম্বইতেও ‘জয় কানহাইয়া লাল কী’ হিন্দি ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন শ্বেতা।
কিন্তু এত ভালো ঢাক কী করে বাজাতে শিখলেন শ্বেতা। অভিনেত্রীর জবাব, “কোনও মেয়েকে ঢাক বাজাতেও দেখিনি কখনও। পাড়ার পুজোয় যিনি ঢাক বাজান, তাঁর বাড়ি গিয়ে শিখতে শুরু করলাম। ফ্লোরে পেশাদার ঢাকি এসে শেখাতে লাগলেন কী ভাবে কাঠিটা ধরতে হয়। বোল তুলতে হয় কী করে। এখন একটা বোল প্রফেশনাল ঢাকি তুলে দিলে বাকিটা বাজিয়ে নিতে পারি”।
শ্বেতা এও জানান যে তাঁর ছবিতে অভিনয়ের অনেক সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তিনি শর্ট ড্রেস পরতে রাজী নন আর ঘনিষ্ঠ কোনও দৃশ্যে অভিনয় করতেও রাজী নন। এই কারণে অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও বন্ধু নেই তাঁর। দুঃখ প্রকাশ করে শ্বেতা জানান যে সহজে বিশ্বাস করে অনেক ঠকেছেন তিনি। তাই আর কাউকে বন্ধু বলে স্বীকার করেন না ইন্ডাস্ট্রির ভেতর।
আরও পড়ুন- স্নাতকোত্তর শিক্ষিত মেয়ে, গতানুগতিক প্রথা ভেঙে খাবার হোম ডেলিভারির কাজ করছেন সঙ্গীতা
তবে ইন্ডাস্ট্রির বাইরে একজন খুব স্পেশাল বন্ধু রয়েছে শ্বেতা। যার সঙ্গে তাঁর মন দেওয়া নেওয়া অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে। প্রায় ন’বছরের সম্পর্ক তাদের। কলকাতার বাইরে থাকেন শ্বেতার মনে মানুষ। তিনি কলকাতায় শিফট হলে তারপর হয়ত দুজনের শুভ পরিণয় সম্পন্ন হবে।





