‘ছাদ আলাদা হয়েছে বলে পথ আলাদা হয়ে যায়নি’, দেবলীনার সঙ্গে বিয়ে ভাঙার প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তথাগত

টলিপাড়ায় একদিকে যেমন নিত্যনতুন সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, তেমনই একাধিক সম্পর্ক ভাঙছেও। সম্প্রতি এই সম্পর্ক ভাঙার ইস্যু নিয়ে তথাগত ও দেবলীনা রয়েছে কেন্দ্রবিন্দুতে। শোনা যাচ্ছে, তারা আলাদা থাকতে শুরু করেছেন। আট বছরের দাম্পত্য জীবনে ফাটল ধরেছে তাদের। কিন্তু কারণ? না সেই বিষয়টা অবশ্য স্পষ্ট নয়। তবে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে অভিনেত্রী বিবৃতি চট্টোপাধ্যায় এসে পড়েছেন তাদের সম্পর্কের মাঝে।

নিজেদের সম্পর্কের ভাঙন  নিয়ে মুখ খোলেন নি তথাগত বা দেবলীনা, কেউই। তবে এবার এক লম্বা পোস্টের মাধ্যমে তথাগত যেন তাদের সম্পর্কের দিকে উঠে আসা নানান প্রশ্নের জবাব দিয়ে গেলেন।

‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে, আমার মুক্তি ধূলায় ধূলায় ঘাসে ঘাসে…’, এই দিয়েই নিজের কথা শুরু করলেন তথাগত।

অভিনেতার কথায়, তারা যেহেতু তাদের সম্পর্কের ভাঙন নিয়ে কিছু বলতে চান নি, তাই নানান ধরণের কারণ উঠে এসেছে সমাজে। তাঁর কথায়, “কেউ বলছে, অষ্টমীতে গরু রান্নার শাস্তি। কেউ বলছে, বয়সে বড় তো… তাই। কেউ বলছে, ছেলেটা চরিত্রহীন। আবার কেউ বলছে সব নাটক! কেউ কেউ এও বলছে, অন্য কারওর জন্য ছেড়ে দিয়েছে। সবাই কিছু না কিছু বলছেই। কারণ, আমরা বলেছি ব্যক্তিগত, আমাদের বলার কিচ্ছু নেই। যা কিছু ব্যক্তিগত, তা-ই স্বাধীন”।

তথাগত ও দেবলীনার কাছে বিয়ে মানেই এক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাওয়া বা একে অপরকে ঘিরে বন্দি হয়ে থাকা নয়। তথাগতর মতে, “থাইল্যান্ডের কো লাণ্টার বিচে আমি আর দেবলীনা যখন সূর্যকে লাল থেকে হলুদ, হলুদ থেকে কমলা আর কমলা থেকে এক আশ্চর্য রঙে ডুবে যেতে দেখেছি, শ্রীলঙ্কার ইয়ালার জঙ্গলে একটা কাঠের বাড়িতে বসে ফায়ারপ্লেসের আগুনের ওমে একটু একটু করে উষ্ণ হয়েছি, সেরেঙ্গেটিতে ভোরবেলা তাঁবু থেকে বেরিয়ে দেখেছি তাঁবুর সামনে দুটো জিরাফ দাঁড়িয়ে পাতা চিবোচ্ছে একটুও ভয় না পেয়ে, রাতের বেলা তাঁবুতে ফেরার সময় টর্চের আলোয় একসঙ্গে দেখেছি চারপাশে ঘিরে থাকা হায়নাদের, সমুদ্রের নীচে প্রথম বার একসঙ্গে দেখেছি একটা অন্য গ্রহ, যেখানে শব্দ নিষিদ্ধ, কিংবা রঙিন মাছেদের ঝাঁকে প্রথম বার স্কুবা ডাইভিং একসঙ্গে, না ফিরতে পারার ভয়– আমার কাছে বিয়ের মানে এই সব”।

তাহলে সবই শেষ তাদের দুজনের মধ্যে। না, কিছু জিনিস হয়ত শেষ হয়েও শেষ হয় না। তথাগতর কথায়, আবার হয়ত কোনওদিন তাঁকে ও দেবলীনাকে একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যাবে। কারণ তাদের ছাদ আলাদা হয়েছে, পথ তো নয়।

নিজেদের পোষ্যদের নিয়ে তিনি বলেন, “দুটো মানুষ যখন আলাদা ছাদের নীচে থাকতে শুরু করে তাদের ছাদগুলির মাঝে দূরত্ব থাকলেও তাদের সত্যিগুলি মুছে যায় না। সে কেউ স্বীকার করুক বা অস্বীকার। তাই আমার আর দেবলীনার মধ্যে সত্যি এটাই, আমরা আলাদা ছাদের নীচে থাকলেও আমাদের চারপেয়ে ছানাদের নিয়ে আমাদের রোজ কথা হয়। চিন্তা হয় আমার খোঁড়া জার্মান শেফার্ডকে নিয়ে। তারা রাতে আমার ছাদে ঘুমোতে আসে। রোজ কাজ শেষ করে আমি ওকে আনতে যাই দেবলীনার ছাদ থেকে। চেরি, মোগলি কখনও ঘুরতে ঘুরতে আমার কাছে আসে। কখনও আমি যাই ওদের সঙ্গে দেখা করতে দেবলীনার ছাদের নীচে। কদাচিৎ আপনারাও আমাকে আর দেবলীনাকে একসঙ্গে দেখে ফেলতে পারেন কোনও কফিশপের আড্ডায়! ছাদ আলাদা বলে পথ আলাদা হয়ে যায়নি”।

দেবলীনার সম্পর্কে অভিনেতার বক্তব্য, “মানুষ দেবলীনার প্রতি আমার বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা একই রকম ভাবে রয়েছে। কোনও কাগজের টুকরো কিংবা ‘বিয়ে’ নামক কোনও সামাজিক তকমা তাকে মুছে ফেলতে পারবে না। বিয়েকে নিয়ে এত হতচ্ছেদ্দা করার আগে দু-দুটো বিয়ে করে ফেলা লোকের মুখে এ কথা মানাচ্ছে না হয়তো। আসলে ‘বিয়ে’ শব্দটাকে জীবনের থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে উঠতে পারিনি কখনও। তাই ‘বিয়ে’ নামক প্রতিষ্ঠানটি বরারবই নিছক কেজো অজুহাত হয়ে থেকে গিয়েছে”।

তাদের সম্পর্কের মাঝে কী সত্যিই তৃতীয় ব্যক্তি এসে পড়েছেন, আর এই কারণেই কী তাদের বিয়েতে ভাঙন? এই প্রসঙ্গে তথাগতর স্পষ্ট লেখেন, “এবার আসি বিবৃতি চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গে। আমার ছবি ‘ভটভটি’র নায়িকার সঙ্গে আমার যোগাযোগ, সম্পর্ক— সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। যদি কোনও দিন জানানোর মতো কিছু ঘটে, আমি নিশ্চিত জানাব”।

RELATED Articles