একের পর এক টলি তারকার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলছে। নানান সময় আসছে আতঙ্কের খবরও। কিন্তু এসব কিছুই টেলিপাড়ার মনোবলকে ভাঙতে পারে নি। টেলিপাড়ার প্রযোজক থেকে শুরু করে পরিচালক, কলাকুশলী, অভিনেতা, সকলেরই একটাই কথা অকারণে তারা ভয় পেতে মোটেই রাজি নন।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তারা জানান যে গত দু’বছরে এই অতিমারির সঙ্গে তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তাই সমস্ত করোনা বিধি মেনে চলার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সতর্কতাও অবলম্বন করছেন তারা। সকলকে টেলিপাড়ার বার্তা, “কেউ আতঙ্কিত হবেন না। অযথা আতঙ্ক ছড়াবেন না। আমরা কোভিড বিধি মেনেই কাজ করছি”।
প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণের হার। আর অভিনেতা-অভিনেত্রীরা মেকআপ করার পর আর মাস্ক পরতে পারেন না। এই নিয়ে কী কোনও ভয় কাজ করে না তাদের মনে। ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’র ‘মা সারদা’ সন্দীপ্তা স্বীকার করেছেন যে একটু হলেও আতঙ্ক জাগে তাঁর মনে। কারণ, তাঁরা বেশি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। সন্দীপ্তার কথায়, “এই কারণেই আমি বারে বারে হাত স্যানিটাইজ করছি। বিশেষ করে কিছু ছোঁয়ার পরে। যাতে জীবাণু কম ছড়ায়”।
এর পাশাপাশি শার কথাও শুনিয়ে সন্দীপ্তা বলেন, “শুনেছি অতিমারির তৃতীয় ঢেউ দ্রুত ছড়ালেও তত ভয়ঙ্কর নয়। আক্রান্তরা তাড়াতাড়ি সেরে উঠছেন। প্রাণহানির আশঙ্কা অনেকটাই কম। তাই সাবধানতা, সতর্কতা মানলেই এই সংক্রমণকে দূরে রাখা সম্ভব”।
আগামী ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত কড়া বিধিনিষেধের পথে হেঁটেছে রাজ্য সরকার। ফের যদি লকডাউন হয়, এমন আশঙ্কায় কী তবে ধারাবাহিকে আগাম পর্ব শুট করে রাখা হবে? এক সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলেন প্রযোজক স্নিগ্ধা বসু।
তাঁর কথায়, “সবে বড়দিন কেটেছে। তার রেশ এখনও রয়ে গিয়েছে। ফলে, এখন হুড়োহুড়ি করে কিছু করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি নতুন ধারাবাহিকের একাধিক পর্ব আগাম শ্যুট করে রাখাও যায় না”। এই কারণেই অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্টের পক্ষ থেকে কড়াভাবে করোনা বিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে যাতে ব্যক্তিগত ভাবে সবাই যেন সতর্ক থাকেন। রোগ থেকে দূরে থাকার উপায়ন একমাত্র এটাই।
এই সমস্যা দূর করতে সমাধান খুঁজছেন ‘মিঠাই’, রানি রাসমনি’ ও ‘পিলু’ ধারাবাহিকের পরিচালক রাজেন্দ্র প্রসাদ দাস। তাঁর কথায়, যা পরিস্থিতি তাতে আগামী বেশ কয়েক বছর হয়ত এই অতিমারিকে নিয়েই সকলকে চলতে হবে। তাই পরিস্থিতি কেমন থাকে, সেই অনুযায়ীই কাজ করবেন তিনি, এমনটাই মত পরিচালকের।
আগাম পর্ব ব্যাঙ্কিং নিয়ে তাঁর যুক্তি, ‘‘আগামী এক মাস যদি লকডাউন থাকে তা হলে গোটা মাসের পর্ব কি আগাম শ্যুট করে রাখা যায়! তাই রাজ্য সরকার থেকে যখন যেমন নির্দেশ আসবে তখন তেমন পদক্ষেপ করব”।
এই একই কথা শোনা গিয়েছে প্রবীণ অভিনেতা সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও। তিনি এর আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “চিকিৎসকদের থেকেই জেনেছি, প্রবল জ্বর হলেও সেটি ভয়ঙ্কর নয়। ওষুধ এবং নিয়মে থাকলে, টানা বিশ্রাম নিলে শরীর বশে থাকছে। তাই অকারণ রাস্তায় না ঘুরলে, মাস্ক পরে থাকলে, হাত, জিনিসপত্র স্যানিটাইজ করলে কিন্তু তৃতীয় ঢেউ থেকে রেহাই মিলতে পারে”।






