Utpalendu Chakraborty: টলিপাড়ায় (Tollywood) আবারও নেমে এল দুঃসংবাদ। গত ২০ শে আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত পরিচালক উৎপলেন্দু চক্রবর্তী (Utpalendu Chakraborty)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। রানীকুঠির সরকারি আবাসনেই তার প্রয়াণ ঘটে। উৎপলেন্দু চক্রবর্তী হলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তীর (Ritabhari Chakraborty) বাবা।
তবে উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর শেষকৃত্যে দেখতে পাওয়া যায় নি তার মেয়ে ঋতাভরীকে, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী শতরূপা সান্যালকে। ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে শতরূপার সাথে ভালোবেসে বিয়ে হয় উৎপলেন্দুর। কিন্তু সংসার সুখের হয় নি তাদের। স্বামীর চরম অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হয়েছিল শতরূপাকে। তাদের দুই মেয়ে চিত্রাঙ্গদা, ঋতাভরীও সেই অত্যাচারের সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
শোনা যায়, মেয়েদের প্রতি কোনওরকম টান ছিল না প্রয়াত পরিচালকের। এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক শতরূপা সান্যাল বলেন, “আমি ভালোবেসে তাকে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু উনি আমায় দুর্বল ভেবে প্রতি রাতে মদ খেয়ে মারধর করতেন। প্রতিদিন এমন ঘটনায় আমার ছোট ছোট মেয়েরা ভয়ে কুঁকড়ে যেত। টয়লেট করে ফেলত। বেশিদিন ওনার সঙ্গে সংসার করলে উনি আমার সঙ্গে দুই মেয়েকেও মেরে ফেলতেন হয়ত। তাই ১৯৯৭ সালে আমি দুই মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে আসি। ২০০০ সালে আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।”
শতরূপা আরও বলেন, “যেদিন দুই মেয়েকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, সেদিন তো কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন নি। আজ ওনার অসহায় অবস্থা দেখে সবাই আমাদের দোষ দিচ্ছেন। ওনার আগের স্ত্রী ইন্দ্রানী এবং পুত্র গোগলও আছে, তাদের কথা কেউ বলছেন না তো, তারা সেলিব্রিটি নয় বলে। নাকি আমার দুই মেয়ে চিত্রাঙ্গদা আর ঋতাভরী বাবার স্নেহ ছাড়াই নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বলে।”
স্বামী উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শতরূপা বলেন, “উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর মধ্যে অনেক গুণের সমাহার ছিল ভালো শিক্ষক, পরিচালক, লেখক, সুরকার, অভিনেতা। তিনি আমার জীবনেও শিক্ষক ছিলেন। ছবির প্রতি আগ্রহ, পরিচালনায় আসার ইচ্ছে— সবটাই ওঁর সঙ্গে কাজ করার সুবাদে। পাশাপাশি, সাতপাকের বাঁধনে জড়িয়ে যাওয়ায় ‘ব্যক্তি’ উৎপলেন্দু চক্রবর্তীকেও দেখেছি। সেই জায়গা থেকে আজ মনে হচ্ছে, যা কিছু কালো তা ওঁর নশ্বর দেহের সঙ্গে ছাই হয়ে যাক। রয়ে যাক শুধুই ভাল, সুখস্মৃতি”।
একই সাথে আক্ষেপ করে শতরূপা জানান, নিজের কর্মজীবনে সফল হওয়ার পরেও এত কিছু ভালো হওয়ার পরেও তার শেষটা সুখের হল না। আসলে সংসার, সন্তান, সম্মান সব ‘ভালো’কেই যত্নে রাখতে হয়, উৎপলেন্দু সেটা পারেননি। পারেননি বলেই কোনও কিছুই ওঁর জীবনে স্থায়ী হল না।





