জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিঠিঝোরা’ (Mithijhora) রাই, নীলু ও স্রোতের জীবনের নানা উত্থান-পতন নিয়ে আবর্তিত হচ্ছে। সম্প্রতি গল্পের মোড়ে দেখা গেছে, রাই ও অনির্বাণের ফুলশয্যার দিন কেউ একজন একটি উপহার রেখে যায়, যার মধ্যে রাই ও শৌর্যের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ছিল। নীলু শৌর্যকে সত্যি প্রকাশ করে। শৌর্য পরে এই সত্যি গিয়ে অনির্বাণকে জানায়। সে সময় অনির্বাণ অবিশ্বাস করেছিল রাইকে। রাই নিজের বাড়ি এসে থাকতে শুরু করে। স্রোত, বউমণি ছাড়া বাড়ির কেউও তাকে বিশ্বাস করেনি। এই অবিশ্বাসের বোঝা টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছিল তাকে।
ধারাবাহিকে (Mithijhora) দেখা গেছে, প্রতিনিয়ত মায়ের কাছ থেকে কথা শুনতে শুনতে একদিন বিতৃষ্ণায় সে বাড়ি ছাড়ে। এদিকে শৌর্য নীলুর মুখ থেকে সব স্বীকারোক্তি করিয়ে, সব কথা রেকর্ড করে নেয়। আর সেই রেকর্ড গিয়ে শোনায় অনির্বাণকে। ছবিগুলো যে নীলুরই কারসাজি ছিল, সে কথাও নীলু নিজের মুখেই স্বীকার করেছে। রাইয়ের কাছে ক্ষমা চাইতে রাইয়ের বাড়িতে আসে অনির্বাণ। তারপরেই খবর আসে যে নীল শাড়ি পড়ে আত্মহত্যা করেছে। অনির্বাণ দেহ দেখে শনাক্ত করে সেটা রাই।
এদিকে, রাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ভেঙে পড়ে নন্দিতা দেবী। নন্দিতা দেবী নিজেকে মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী মনে করে, এবং পুলিশকে অনুরোধ করে তাকে ও অনির্বাণের পরিবারকে গ্রেফতার করতে। সে সময় অনির্বাণ নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। নন্দিতা দেবী মনে করিয়ে দেয় আমার মেয়েকে তুমি ফুলশয্যার দিনে বের করে দিয়েছিলে। তোমার থেকে অবিশ্বাস পেয়েই ও বাড়ি ছাড়া হয়েছে। তবে রাইয়ের মৃত্যুতে কষ্ট পায় অনির্বাণও।
রাইয়ের মৃত্যুর খবরে নীলুও ভীষণভাবে কাঁদতে শুরু করে। শৌর্য তখন নীলুকে দোষারোপ করে বলে, তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু তো আজ মারা গেল, নিশ্চয় খুশি হচ্ছো। অনির্বাণকে ধরতে পুলিশ আসে বাড়িতে। ঠিক সেই মুহূর্তে রাই অনির্বাণের বাড়িতে ফিরে আসে এবং সমস্ত চার্জ থেকে মুক্তি পায় অনির্বাণ। রাই বলে, আমার কাজ ছিল বিপদের দিনে অনির্বাণের পাশে এসে দাঁড়ানো, আমি দাঁড়িয়েছি, একলা ফেলে পালিয়ে যাইনি। তখন অনির্বাণ রাইয়ের হাত ধরে বলতে থাকে, প্লিজ যেও না।
উল্লেখ্য, যে নিজের ভালোবাসার মানুষকে বারবার ভুল বোঝে তাকে দর্শকদের মোটেই পছন্দ নয়। অনির্বাণকে দর্শকদের মোটেই পছন্দ হচ্ছে না। দর্শকেরা মনে করছেন রাইয়ের জন্য যোগ্য শৌর্য। শৌর্য কোনদিনও রাইকে ভুল বোঝেনি, রাইয়ের বিরুদ্ধে কোন মিথ্যে কথায় কান দেননি। সব সময় রাইয়ের পাশে থেকেছে একজন বন্ধুর মতো। আর এদিকে অনির্বাণ মুহূর্তে মুহূর্তেই ভুল বুঝতে থাকে রাইকে। অনির্বাণের এই চরিত্র দর্শকেদের চক্ষুশূল হয়ে উঠছে। মিঠিঝোরা (Mithijhora) ধারাবাহিকের দর্শকেরা চাইছেন রাই শৌর্য নতুন করে জুটি বাঁধুক।
রাই ও শৌর্যর কেমিস্ট্রি বরবরই নজর কেড়েছে দর্শকদের। দুজনের মধ্যে সম্পর্ক থাকাকালীন ও বিচ্ছেদের পরের যে সমীকরণ দেখানো হয়েছিল তাও দর্শকদের বেশ পছন্দের। অনির্বাণের উপর ক্ষিপ্ত দর্শক, রাইয়ের সঙ্গে শৌর্যর মিল দেখতে চায় দর্শক। ধারাবাহিকে (Mithijhora) আদৌ এটা কখনও দেখানো হবে?





