বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা বিজয় রাজকে নিয়ে কয়েকদিন ধরেই চলছে তোলপাড় কারণ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি শুটিংয়ের সেটে মহিলা ক্রু মেম্বারকে যৌননিগ্রহ করেছিলেন।সেই অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ যা নিয়ে তোলপাড় হয়ে যায় গোটা দেশ।যদিও গ্রেপ্তারের পরের দিনই তিনি জামিনে মুক্তি পান তবে এই নিয়ে এতদিন নিরব ছিলেন এই অভিনেতা।
অবশেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি এই বিষয়ে মুখ খুললেন এবং কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন রীতিমতো। তিনি বলছেন যে, আমাকে তো বিচারের আগেই দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়া হয়েছে!
বস্তুত সময়টা এখন বিজয় রাজের সত্যিই খারাপ যাচ্ছে কারণ মহারাষ্ট্রের গোণ্ডিয়ায় বিদ্যা বালানের শেরনি নামের যে ছবির শুটিংয়ের সেটে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ সেই ছবি থেকে ইতিমধ্যেই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।এছাড়াও ছবির নির্মাতারা নিজেরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বিষয়টি নিজেদের মতো খতিয়ে দেখার জন্য ফলে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে স্বর্গ থেকে সোজা নরকে পৌঁছে গিয়েছেন বিজয় রাজ।
এই সাক্ষাৎকারে রীতিমতো অসহায় অবস্থায় বিজয় প্রশ্ন তুলেছেন, অনেক পরিশ্রম করে তিনি বলিউডে নিজের কেরিয়ার গড়ে তুলেছিলেন, নিজের একটি বাড়িও করেছিলেন। এতো সহজেই সেই কেরিয়ার নষ্ট করে দেওয়া যায়? তার দর্শক এবং ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, “আমার বিরুদ্ধে কেউ একটা অভিযোগ তুলল আর আপনারা চোখ বুঁজে বিশ্বাস করে নিলেন যে আমি অপরাধী?কাহিনীর একটা দিক শুনেই তো মানুষ আমাকে অপরাধী ভেবে নিচ্ছে। এরপরে মামলার রায় যাই হোক না কেন একটা তো কালো দাগ পড়ে গেল আমার জীবনে। আমার জীবনে এর ভীষণ বাজে প্রভাব পড়ছে। আমার বৃদ্ধ বাবা দিল্লিতে প্রবল অপমানের সম্মুখীন হচ্ছেন । এমনকি আমার একুশ বছরের মেয়ে পর্যন্ত হেনস্থার মুখোমুখি হচ্ছে”, গলায় তখন অসহায়তা ঝরে পড়ছে বিজয় রাজের।
কিন্তু সেদিনকে তাহলে কী হয়েছিল?
বিজয় জানিয়েছেন, এই মহিলা ক্রু মেম্বারের সঙ্গে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করছেন। যেদিন এই ঘটনাটি ঘটে আসলে সেদিন তারা সবাই সেটে একসঙ্গে ক্রিকেট খেলছিলেন, এরপরে ওই মহিলা মেম্বার বলেন যে, তিনি অস্বস্তি অনুভব করছেন সেই সময়ই বিজয় ক্ষমা চেয়ে নেন। “সকলের সামনে আমার ক্ষমা চাওয়ার অর্থ হল, আমি কারও অনুভবকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমার বিরুদ্ধে পরে থানায় যে ভুল অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে সেগুলো আমি মেনে নিচ্ছি।” সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন এই অভিনেতা।
তিনি আজও বিশ্বাস করেন যে, সত্যিটা সকলের সামনে আসবেই কিন্তু তার এটাও আফসোস যে ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার তা ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে।





