Anju Ghosh: ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ছবি ব্লকব্লাস্টার হিট সিনেমা। বাংলাদেশে এবং কলকাতার শিল্পীদের নিয়ে তৈরি হয়ে তখনকার দিনের এই বিখ্যাত সিনেমা। ১ ঘণ্টা ২২ মিনিটের ছবি জয়জয়কার ফেলে দিয়েছিল সিনে জগতে। বাংলা সিনে জগতের সবচেয়ে বক্স অফিস কাঁপানো ছবি বলা হয় এই ‘বেদের মেয়ে জোসনা’কে। প্রযোজকদের ঘরে বড়ো টাকার অঙ্ক তুলে দিয়েছিল এই সিনেমাই। এই ছবি তৈরির বাজেট ছিল ২০ লাখ টাকা। বক্স অফিসে এই ছবি আয় করেছিল ২০ কোটি টাকা। এই ছবির মতো আর কোনও ছবিই এমন সাফল্য পায়নি বক্স অফিসে। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ছবিতে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অঞ্জু ঘোষ (Anju Ghosh), ওরফে অঞ্জলি ঘোষ।
বাংলা সিনেজগতে দাপিয়ে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ। শুধু পূর্ব বাংলায় না, দুই বাংলাতেই কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। প্রায় সাড়ে তিনশো ছবিতে কাজ করেছেন অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষ। তবে সকলের মনে জায়গা করে রেখেছেন বেদের মেয়ে জোসনা হিসেবেই। বহুদিন আর পর্দায় দেখা যায় না অভিনেত্রী অঞ্জু ঘোষকে। কেন আর অভিনয় জগতে দেখা যায় না তাকে উত্তর দিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই।
‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ছবিতে দাগ কাটার আগে অঞ্জু ঘোষ অভিনয় করেছিলেন চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা ছবিতে। এই ছবি ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ছবি। কেবল এই দুটি ছবি নয় অঞ্জু ঘোষ যে কটা ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তার প্রত্যেকটি ব্লকবাস্টার হিট হত। তাই প্রযোজকদের অগাধ ভরসা ছিল অঞ্জুর ওপর। প্রযোজকরা জানতেন অন্য ছবিতে থাকা মানেই লোকনি হওয়া টাকা ঘরে ফিরবেই। সে সময়কার বাংলা ছবির দুর্নাম তৈরি হয়েছিল যে টাকা ব্যয় করে ছবি তৈরি করলেও টাকা উঠে আসে না বক্স অফিসে। কিন্তু অঞ্জু ঘোষ বাংলা ইন্ডাস্ট্রি এটা সব তোর নাম ঘুচিয়ে দিয়েছিলেন।
এত সাকসেসফুল একজন অভিনেত্রী কেন ইন্ডাস্ট্রি ছেড়েছিলেন, তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা প্রশ্ন উঠেছে একাধিক সময়। অভিনেত্রী নিজেই এক সাক্ষাৎকারে তার ইন্ডাস্ট্রি ছাড়ার কারণ খোলসা করেন। অঞ্জু ঘোষ বলেন, “জাতি-জাতি করে একটা হিড়িক উঠেছিল–ও হিন্দু, ও মুসলমান! আমি এর মধ্যে পড়তে চাইনি। কেরিয়ারে ৩৫০ ছবিতে অভিনয় করেছি। তার মধ্যে ২০০টা ছবি ছিল বাংলাদেশের। হিন্দুর বাড়ির মেয়ে হয়েও সেই ২০০টা ছবিতেই কলমা পড়ে অভিনয় করেছি। সেজেছি মুসলমানের বেটি। কিন্তু বাংলাদেশ আমাকে বলল হিন্দুর বেটি। অন্যদিকে এখানে যখন এলাম আমার গোটা প্রেজ়েন্টেশন দেখে ভারত বলল আমি মুসলমানের বেটি। ফলে হল কী, আমি ওপারে সংখ্যালঘু, এপারেও সংখ্যালঘুই থেকে গেলাম।”
তিনি বলেছেন, “আমাকে ‘হিন্দুর মেয়ে’ বলল, হিন্দু-মুসলমানের এত তফাত করে দিচ্ছিল, যে মনটা আমার ভেঙে গেল। আমি শিল্পী, তাই না। আমার তো কোনও জাতি নেই। আমার পরিচয় আমি কেবলই একজন শিল্পী।” এদিকে বাংলাতে এসেও বন্ধুকে শুনতে হয় ‘মুসলমানের বেটি’। কখনোই ছিপ ছিপে রোগা চেহারার নায়িকা ছিলেন না অঞ্জু। এপারে অঞ্জুকে এক সহশিল্পী বলেছিলেন, “বাংলাদেশের সব কিছুই বড়-বড়”। এমন কথা মোটেই পছন্দ হয়নি এই অঞ্জু ঘোষের। সে সব থেকেই ইন্ডাস্ট্রি থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অঞ্জু ঘোষকে নিয়ে অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বলেন, “আমি যখন ওঁর সঙ্গে কাজ করেছি তখনও ওঁর ভীষণ ডিমান্ড ছিল। কিন্তু অনেকেই মনে করতেন তিনি ঠিক আর চার পাঁচটা হিন্দুদের মতো নন। ওঁর কথাবার্তা, হাঁটাচলা সবেতেই বাংলাদেশি মুসলিম ছাপ ছিল। সেই জন্যই তিনি একজন বড় মাপের অভিনেত্রী হওয়া সত্বেও অনেকেই তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চাইতেন না। কুণ্ঠা বোধ করতেন”।





