সারা বিশ্বে ভ্যাকসিনের প্রথম মডেল ছিলেন একজন ভারতীয় নারী, কে তিনি, মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ভ্যাকসিন তৈরির প্রায় ইঁদুর দৌড় চালাচ্ছেন বিশ্বের সমস্ত তাবড় তাবড় দেশের বিজ্ঞানীরা। এমন অবস্থাতেই সম্প্রতি বিবিসি থেকে পাওয়া একটি রিপোর্ট সূত্রে মিলেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক ডক্টর নাইজেল চ্যালেন্স-এর দাবী, বিশ্বের দুরারোগ্য ব্যাধি স্মল পক্সের ভ্যাকসিন প্রথম প্রচার করেন একজন ভারতীয় নারী। তিনি ছিলেন আদতে এক রানী। সেই রানীর নাম দেবজমনি।

২০০৭ সালে নিলামে উঠে একটি ভারতীয় ছবি যার মধ্যে ছিলেন তিনজন নারী। প্রথমে মনে করা হয়, এই চিত্রে রানী দেবজমনি ছাড়া যে দু’জন রয়েছেন তারা বোধ হয় সেই যুগের বাইজি। কিন্তু পরে অনেক গবেষণার মাধ্যমে জানা যায় যে বাকি দু’জন একেবারেই বাইজি ছিলেন না। তারা ছিলেন আরও দুই ভারতীয় রানী। অর্থাৎ চিত্রের তিন মহিলাই ছিলেন রাজা কৃষ্ণরাজ তৃতীয়ের স্ত্রী।

গবেষণায় জানা যায়, ১৮৮৫ সালে রানী দেবজমনির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ওয়াদিয়া রাজা কৃষ্ণরাজ তৃতীয়। কিছুকাল পরেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এক মহামারী, স্মল পক্স। একের পর এক মানুষ আক্রান্ত হন সেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে। প্রাণ হারান বেশ কয়েক হাজার মানুষ। এমতাবস্থায়, সেই স্মল পক্সের ভ্যাকসিন তৈরি করেন এক ব্রিটিশ ডাক্তার, এডওয়ার্ড জেনার। কিন্তু ভারতীয়দের কাছে তখন ইংরেজরা দু চক্ষের বিষ। চরম শত্রু তখন ইংরেজ। এমন পরিস্থিতিতে ইংরেজদের একেবারেই বিশ্বাস করতেন না ভারতীয়রা। যার ফলে তাদের তৈরি ভ্যাকসিনও নিতে চাননি তারা। কিন্তু সেদিক থেকে দেখতে গেলে ওয়াদিয়ারা বেশ বিশ্বাসযোগ্য ছিলেন সাধারণ মানুষদের কাছে। আর এই বিশ্বাসকেই কাজে লাগান ইংরেজরা।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, স্মল পক্সে আক্রান্ত হন রানী দেবজমনি। তখন ইংরেজদের তৈরি ওই ভ্যাকসিন নিয়েই সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০৭ সালে যে চিত্রটি নিলামে উঠে, তাতে দেখা গিয়েছে রানী তার সাদা শাড়ি হাত দিয়ে সরাচ্ছেন এবং তার শরীরে স্মল পক্সের দাগ স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের কাছে যাতে এই ভ্যাকসিন সহজে পৌঁছায় ও মানুষ যাতে তা কোনও ধন্ধ ছাড়াই গ্রহণ করতে পারেন, তার জন্যই এমন এক চিত্রের জন্য মডেল হন তিনি। সে যুগের নারী হওয়া সত্ত্বেও নিজের শাড়ি এইভাবে সড়াতে একটুও অসম্মানিত বোধ করেননি দেবজমনি। তাঁর এই চিত্র আঁকেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক চিত্রকর।

এই চিত্রের দ্বারাই জনসমাজে প্রচারিত হয় যে ইংরেজদের তৈরি এই ভ্যাকসিন নিয়েই স্মল পক্সের মতো কঠিন ব্যামো থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন রানী দেবজমনি। আর তারপর থেকেই ধীরে ধীরে ভারতবাসী স্মল পক্সের ওই ভ্যাকসিনকে গ্রহণ করতে বিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। অবশ্য পরে এক গবেষণা থেকে জানা যায়, রানী দেবজমনির পুঁজ থেকেই পরবর্তীকালে ওই ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হয়, অর্থাৎ পৃথিবীর প্রথম ভ্যাকসিন সৃষ্টিকর্তা ছিলেন একজন ভারতীয় নারী।

RELATED Articles

Leave a Comment