এদিন এক বিশেষ মুহূর্তে খুলে যায় স্বর্গ-নরকের দ্বার, কৌশিকী অমাবস্যার মাহাত্ম্য আসলে কী, জেনে নিন

আজ কৌশিকী অমাবস্যা। এই অমাবস্যা অন্যান্য নানা অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা। তন্ত্র ও শাস্ত্রমতে ভাদ্রমাসের এই অমাবস্যার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। এদিন কঠিন সাধনার মাধ্যমে সিদ্ধিলাভ করেন তন্ত্র সাধকরা। কুলকুণ্ডলিনী চক্রকে জয় করেন তারা।

পুরানে কথিত রয়েছে যে এই বিশেষ দিনেই শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন দেবী আদ্যাশক্তি। কৌশিকী শব্দের আভিধানিক অর্থ আদ্যাশক্তির বিশেষ রূপ। পুরাণ মতে, কৌশিকী রূপেই শুম্ভ নিশুম্ভের নিধন করেছিলেন দেবী। পুরান অনুযায়ী, একবার শুম্ভ ও নিশুম্ভ কঠিন সাধনা করে ব্রহ্মাকে তুষ্ট করেছিলেন। চতুরানন তখন তাঁদের বর দিয়েছিলেন যে কোনও পুরুষ তাঁদের বধ করতে পারবেন না৷ শুধু কোনও অযোনি সম্ভূত নারী বধ করতে পারবেন তাঁদের। অর্থাৎ এমন এক নারী যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেন নি। তিনিই মহাশক্তিশালী দুই অসুর ভাইকে বধ করতে পারবেন।

দেবী পার্বতী যখন সতী রূপে দক্ষযজ্ঞ স্থলে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন, সেই সময় তাঁর গায়ের রঙ কালো মেঘের মতো হয়ে যায়। এই কারণে তাঁকে মহাদেব দেবী কালিকা বলে ডাকতেন। শুম্ভ-নিশুম্ভের অত্যাচারে স্বর্গ ও মর্ত্যবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। সেই সময় স্বর্গ ও মর্ত্যকে উদ্ধারের জন্য দেবী কালিকাএ শরণাপন্ন হন মহাদেব।

দেবী কালিকা কৌশিকী রূপে দানব ভাই শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করেন। আজ সেই তিথি যেদিন কালিকা দেবী কৌশিকী রূপে আবির্ভূতা হন ও শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করেন। এই কারণে এই অমাবস্যার নাম কৌশিকী অমাবস্যা। আজকের দিনেই আবার দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয় স্তরের অন্যতম দেবী মর্ত ধামে আবির্ভূতা হন। এদিন তারাপীঠে এই উপলক্ষ্যে বড় উৎসব হয়।

আজকের দিনেই সাধক বামাক্ষ্যাপা তারাপীঠ শ্মশানে শ্বেত শিমূল তলায় সাধনা করেছিলেন। হিন্দু তন্ত্র অনুযায়ী, এই তিথিতে সাধকরা কঠোর তপস্যায় সিদ্ধিলাভ করতে পারেন। তন্ত্রমতে এই রাতকে ‘তারা রাত্রি’ও বলা হয়ে থাকে। এদিন এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজাই খুলে যায়। সাধকরা ইচ্ছেমত ধনাত্মক না ঋণাত্মক শক্তি সাধনার মাধ্যমে সিদ্ধিলাভ করেন।

RELATED Articles