রথযাত্রার সূচনা! চন্দন স্নানের পরই ধূম জ্বর আসবে জগন্নাথের, মন্দিরের গর্ভগৃহ থাকবে বন্ধ, এর আগেই মাহেশে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

গতকাল, মঙ্গলবার অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষ্যে হুগলীর মাহেশে রথযাত্রার সূচনা হল। এদিন চন্দন যাত্রার সূচনা হয় মাহেশের মন্দিরে। আর সেই চন্দনযাত্রা দেখার জন্য মন্দির চত্বরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় ছিল দেখার মতো।

গত দু’বছর ধরে করোনার কারণে মাহেশে রথযাত্রা বন্ধ ছিল। তবে এই বছর রথযাত্রা হবে। এই কারণে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন চন্দনযাত্রার মাধ্যমেই সূচনা হল রথযাত্রার।

এই চন্দনযাত্রা আসলে কী?

কথিত রয়েছে, মহাপ্রভু জগন্নাথদেব রাজা ইন্দ্রচন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তাঁর সর্বাঙ্গে চন্দন লেপন করা হয়। কারণ প্রখর তাপে জগন্নাথদেবের খুব মাথা ধরেছিল। সেই থেকেই শুরু হয় এই চন্দনযাত্রা। এদিন বিগ্রহে চন্দন লেপন করে চন্দনযাত্রার সূচনা হয়। জগন্নাথের স্নানযাত্রার দিন সেই চন্দন ধুয়ে ফেলা হবে গঙ্গাজল ও দুধ দিয়ে। এরপরই ধূম জ্বর আসবে জগন্নাথদেবের। সেই সময় মন্দিরের গর্ভগৃহ থাকবে বন্ধ। সেই সময় জগন্নাথদেব লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকবেন। আর জ্বর থেকে সেরে উঠেই রথযাত্রার দিন রথে চড়ে যাবেন মাসির বাড়ি।

রথযাত্রার সূচনা! চন্দন স্নানের পরই ধূম জ্বর আসবে জগন্নাথের, মন্দিরের গর্ভগৃহ থাকবে বন্ধ, এর আগেই মাহেশে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

পুরীর পর অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাচীন রথ হুগলীর মাহেশের রথ। এই মাহেশকে চৈতন্যদেব আখ্যা দিয়েছিলেন ‘নব নীলাচল’। কথিত রয়েছে যে চতুর্দশ শতাব্দীতে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী নামে এক ব্যক্তি পুরীতে তীর্থ করতে গিয়েছিলেন।

তাঁর ভীষণ ইচ্ছে ছিল জগন্নাথদেবকে ভোগ খাওয়ানোর। কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষ বাধা দেওয়ায় দুঃখে ধ্রুবানন্দ অনশন করে নিজের জীবন শেষ করবেন বলে ঠিক করেন। অনশনের তৃতীয় দিনে তিনি হুগলি নদীর ধারে মাহেশ জগন্নাথ মন্দির স্থাপন করার স্বপ্নাদেশ পান। সেই আদেশ পেয়েই মাহেশে আসেন ধ্রুবানন্দ। এরপর সেখানেই তৈরি হয় জগন্নাথ মন্দির।

এই বছর রথযাত্রা উত্‍সব ১লা জুলাই। এদিন প্রথমে বলরাম, তারপর সুভদ্রা ও জগন্নাথদেবকে চন্দন লেপন করা হয়। রান্না হয় ভোগ। কীর্তন, প্রদীপ জ্বালিয়ে চলে আরতি। মাহেশের মন্দির চত্বরে এদিন সকাল থেকেই ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। দু’বছর পর রথযাত্রার সূচনা চাক্ষুষ দেখতে মাহেশে হাজির হন ভক্তরা। এ বছর মাহেশের রথযাত্রা ৬২৬ বছরে পদার্পণ করল।  

RELATED Articles