জাতীয় পতাকা বিশ্ব দরবারে দেশের প্রতীক। যে কোনও দেশেরই জাতীয় পতাকা সেই দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জাতীয়তাবোধ এবং জনজীবনকে বহন করে। একই সঙ্গে বহন করে চলে দেশকে নিয়ে প্রত্যেকটি দেশবাসীর আবেগকে। আর সেই ধারাবাহিকতাতেই ১৩০ কোটির দেশ এই ভারতবর্ষও গর্বিত তাঁদের জাতীয় পতাকা, তাঁদের তেরঙ্গাকে নিয়ে।
নিজের জন্মদিন, কাছের মানুষদের জন্মদিন তো আমাদের সবারই মনে থাকে। তবে যে তেরঙ্গাকে নিয়ে দেশবাসী এত গর্বিত যে জাতীয় পতাকার সামান্যতম অসম্মান আমাদের কষ্ট দেয় সেই জাতীয় পতাকার জন্ম দিবসটি কি আমরা জানি? উত্তরটা হয়তো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ‘না’। তিনটি রঙে রাঙানো এই কাপড়ের টুকরোর জন্মদিবসের ইতিহাসটা চলুন তাহলে একটু ঘেঁটে নি। ১৯৪৭ সালের ২২শে জুলাই দেশের জাতীয় পতাকা বর্তমান রূপে ভারতীয় গণ পরিষদে এটি গৃহীত হয়।
সর্বপ্রথমে গেরুয়া, মাঝে সাদা এবং নীচে সবুজ। ঠিক মাঝখানে গাঢ় নীল রঙের অশোক চক্র। এই পতাকা প্রত্যেক ভারতবাসীর অহংকার। ১৯৪৭ সালের ২২শে জুলাই গণ পরিষদে গৃহীত হওয়ার পর এটি ডমিনিয়ন অফ ইন্ডিয়ার অফিসিয়াল ফ্ল্যাগ হিসেবে চিহ্নিত হয়। ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রতিভূর মর্যাদা পায় এই ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা। স্বাধীনতার আগে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস স্বরাজ ফ্ল্যাগ হিসেবে যে পতাকা ব্যবহার করত অনেকটা তারই মতো দেখতে আমাদের জাতীয় পতাকা। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসের স্বরাজ ফ্ল্যাগটি ডিজাইন করেছিলেন পিংগলি ভেংকাইয়া। ১৯৪৭ সালের ১৫ই অগস্ট স্বাধীন ভারতে প্রথমবার এই পতাকাটি উত্তোলিত হয়।
ভারতীয় আইনে শুধুমাত্র খাদির কাপড় দিয়েই জাতীয় পতাকা প্রস্তুত করার নিয়ম রয়েছে। জাতীয় পতাকার মাপ ও তার অন্য বৈশিষ্ট্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস। একমাত্র খাদি উন্নয়ন ও গ্রামীণ শিল্প কমিশনের হাতে জাতীয় পতাকা উত্পাদনের অধিকার রয়েছে। তারাই আঞ্চলিক সংস্থাগুলিকে উত্পাদনের দায়িত্ব দিয়ে থাকে। ২০০৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণাটক খাদি গ্রামোদ্যোগ সংযুক্ত সংঘ জাতীয় পতাকার একমাত্র উৎপাদক।
পুরাতন নিয়ম অনুযায়ী স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস-সহ অন্যান্য জাতীয় দিবস অর্থাৎ বিশেষ দিন ছাড়া সাধারণ নাগরিকেরা পতাকা উত্তোলন করতে পারতেন না। ২০০২ সালে শিল্পপতি নবীন জিন্দলের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট সাধারণ নাগরিকদের জাতীয় পতাকা অন্যান্য দিনেও ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে পতাকাবিধি সংস্কারের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। ২০০৫ সালে পতাকাবিধি ফের সংশোধন করা হয়। আগে কোনওরকম পোশাকে জাতীয় পতাকার ছবি ব্যবহার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। ২০০৫ সালে পতাকা বিধি সংশোধনের পর কোমরের ওপরের অংশে পরিধেয় বস্ত্রে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।
সরকারি বিধিতে জানাচ্ছে জাতীয় পতাকা কখনোই মাটি বা জল স্পর্শ করবে না। এই পতাকা কোন কিছুর সামনে আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। জাতীয় পতাকা দিয়ে কোনও মূর্তি, নামলিপি বা শিলান্যাস প্রস্তর আবরিত করা যাবে না।





