মহিলাদের দেহাংশ প্রদর্শন নিয়ে ছুৎমার্গ নতুন কিছু নয়। নারীর শরীর কতটা দেখা যাবে আর কতটা ঢাকা থাকবে আবরণের আড়ালে তা ঠিক করে দেন প্রকারান্তরে পুরুষরাই। কিন্তু যুগ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে এখন এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে এরকমটাই মনে করা হয় যদিও বছর বাইশের জিন হুয়েতের (Jeanne) অভিজ্ঞতা অবশ্য অন্য কথা বলছে।
ফ্রান্সের (France) রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় মিউজিয়াম হলো মুসে ডোর্সে (Musee d’Orsey)। প্রগতিশীল দেশ বলে বরাবরই ফ্রান্স মুক্তমনাদের অন্যতম প্রিয় আখড়া। কিন্তু এবার এই মুসে ডোর্সে মিউজিয়ামে ঢুকতে গিয়ে বাধা পেলেন জিন (Jeanne) কারণ তার পোশাকের মধ্যে দিয়ে ক্লিভেজ (Cleavage) দেখা যাচ্ছিল! মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ-এর তরফ থেকে মুখে কিছু বলা না হলেও হাবেভাবে স্পষ্ট বুঝিয়ে দেওয়া হলো, তুমি এরকম পোশাক পরেছ বলে তোমাকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এরকম অদ্ভুত অবমাননাকর পরিস্থিতিতে অপ্রস্তুত হয়ে শেষ পর্যন্ত জ্যাকেট চাপিয়ে ওই মিউজিয়ামে ঢুকতে বাধ্য হন জিন (Jeanne)।
কিন্তু সাহিত্যের পড়ুয়া এই ছাত্রী চুপ করে থাকার মানুষ নন। তিনি গোটা ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্ণনা দেন। তার সেই পোস্ট রীতিমতো ভাইরাল হতেই চাপে পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ।
Lettre ouverte @MuseeOrsay
Ci-joint la robe de la discorde (photo prise quatre heures plus tôt) pic.twitter.com/FTIXQKsdRZ
— Toto (@jeavnne) September 9, 2020
কী ঘটেছিল সেই দিন?
গত ৮ই সেপ্টেম্বর এক বন্ধু মারিয়ন ক্যানিভালের সঙ্গে একটি ক্যাফেতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। তারপর বিকেল চারটে নাগাদ মুসে ডোর্সে আর্ট মিউজিয়ামে যান। সেখানে তখন জেমস তিশোর ছবি প্রদর্শনী চলছিল। টিকিট কাটতে গিয়ে ঘটলো বিপত্তি।
মিউজিয়ামের এক এজেন্ট এই ছাত্রীকে জানান তাকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। প্রথমে জিন (Jeanne) ঘাবড়ে গেলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন যে তার পোশাক নিয়েই এই আপত্তি। হতভম্ব হয়ে যান এই ছাত্রী। ওই এজেন্টকে বারবার জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি কী দোষ করেছেন কিন্তু ওই এজেন্ট চলে যান এবং ফিরে আসেন একজন নিরাপত্তারক্ষী ও মিউজিয়ামের ম্যানেজারকে নিয়ে। কিন্তু তারাও কোনো সঠিক কারণ দর্শাননি। শেষে বাধ্য হয়ে থাকতে না পেরে জিন (Jeanne) জিজ্ঞাসাই করে ফেলেন, ‘আমার স্তনই কি সমস্যার কারণ?
জিন (Jeanne) থাকেন প্যারিসে। প্যারিসকে সবাই প্রেমের শহর বলেই জানেন, যেখানে উন্মুক্ত ভাবেই প্রকাশ্যে চুম্বন খাওয়া হয়। তাই প্রথমে জিন (Jeanne) ব্যাপারটি বিশ্বাসই করতে পারেননি এবং তিনি জানিয়েছেন যে তাকে কেউ সোজাসুজি কোন কারণ বলছিলেন না। বারংবার একটা লাইনেই তাকে বলা হচ্ছিল, জ্যাকেট পরুন, চেন টানুন তারপরে ভেতরে যেতে দেওয়া হবে। বাধ্য হয়ে জ্যাকেট পরেই মিউজিয়ামে ঢোকেন জিন (Jeanne)।
কিন্তু ততক্ষণে তিশোর ছবি দেখা থেকে তার মনোযোগ সরে গিয়েছে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাদানুবাদের সময় তিনি রীতিমতো লজ্জিত বোধ করছিলেন। যদিও তার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমায় নিয়ে লোকে কী ফ্যান্টাসি করল, তার দায় আমার নয়।’
এরপর জিনের এই পোস্ট টুইটারে ভাইরাল হয়ে যেতেই ক্ষমা চান মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। টুইট করেন তারা জানান যে, ‘আমরা অত্যন্ত অনুশোচনা বোধ করছি এবং ক্ষমা চাইছি। তাঁর সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি।’ পরে জিনের সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়।
যে শিল্পীর ছবি প্রদর্শনীতে গিয়েছিলেন সেই তিশো কিন্তু মহিলাদের দৈনন্দিন জীবনের ছবি আঁকার জন্যই বেশি বিখ্যাত। সেখানে একজন মহিলা কী পোশাক পরবেন তার নীতি পুলিশি করবে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ, এই কথাই মানতে পারছেন না নেটিজেনরা। তাদের বক্তব্য, নারী শরীরে স্তন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, এটাকে কেউ সেক্সুয়ালাইজ করলে মুশকিল। জিন তো নগ্ন হয়ে ঢোকেননি। ফ্রান্সের মত প্রগতিশীল দেশে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের এই হীন কাজ মানায় না।





