অভিজিতের এক হুঁশিয়ারিতেই হল কাজ, দীর্ঘদিনের পড়ে থাকা কাজ শুরু হচ্ছে তমলুকে, কোন অসাধ্য সাধন করলেন বিজেপি সাংসদ?

ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি। জনসাধারণকে পরিষেবা দিতে সময়ের আগেই অবসর নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়িয়ে তমলুকের সাংসদ হন। বিচারপতি থাকাকালীন কিছু কিছু মানুষের জন্য তিনি মসীহা ছিলেন। এবারও নিজের সংসদীয় এলাকায় বিরাট কাজ করলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

পুর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া এলাকায় দারুণ এক উন্নতি ঘটালেন তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আর সেই কাজের জেরে বেজায় খুশি পাঁশকুড়ার নীলকুণ্ঠা এলাকার মানুষজন। তাঁর এক হুঁশিয়ারিতেই যে এতদিনের পড়ে থাকা কাজ সম্পন্ন হবে, তা হয়ত এলাকার মানুষজনও ভাবতে পারেন নি। ১৪ বছর পর অবশেষে হতে চলেছে এই কাজ।  

২০১০ সালে থেকে তমলুকের রাজগোদা-পাঁশকুড়ার রঘুনাথবাড়ি রেল স্টেশনের মাঝখানে নীলকুণ্ঠায় হল্ট স্টেশন তৈরির দাবী জানিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন গ্রামবাসীরা। এই আন্দোলনের চাপে ২০১৪ সালে রেলের তরফে এই নীলকুন্ঠা হল্ট স্টেশনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ১০ বছরেও সেই হল্ট স্টেশন তৈরি হয়নি। টাকা বরাদ্দ করেনি রেল।

লোকসভা নির্বাচনে জিতে তমলুকের লোকজনের সঙ্গে দেখা করতে যান অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সেই সময় এলাকাবাসীরা তাদের সমস্যার কথা তাঁকে জানান। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, তিনি এই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। হলও তাই। মাস দুয়েক আগে এই বিষয়ে রেলকে বেশ কড়া ভাষায় চিঠি লিখেছিলেন অভিজিৎবাবু। তাঁর সেই চিঠিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে এই বিষয়ে তিনি রেলমন্ত্রীকে জানাবেন।

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই বিষয়ে বলেন, “রেলমন্ত্রীকে আর জানাতে হয়নি। এক চিঠিতেই কাজ হয়েছে। ১৪ বছর পর রেলের তরফে হল্ট স্টেশন তৈরির  জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে”। চলতি মাসেই কাজ শুরু হবে বলে কথা দিয়েছে রেল, এমনটাই খবর। আর এমন খবরে বেজায় খুশি সেখানকার মানুষজনও।

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “অনুমোদনের ১০ বছর পরেও হল্ট স্টেশন নির্মাণ হল না। একথা শুনে আমার সবার প্রথম মোদীজির মুখটা মনে পড়ছিল। কারণ, মোদীজির কাছে খবর গেলে উনি কী রি-অ্যাকশন করতেন, সেটাই ভাবছিলাম”।

আরও পড়ুনঃ বৃদ্ধা পথচারীকে বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কা, গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলে

জানা যায়, এরপরই তিনি রেল দফতরে চিঠি দেন। যদি এই বিষয়ে দ্রুত কাজ না হয়, তাহলে রেলমন্ত্রীকে এই বিষয়ে জানাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। এরপরই রেলের তরফে বরাদ্দ করা হয়েছে টাকা। এলাকার মানুষের এবার ১০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটল।

RELATED Articles