আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ ও আন্দোলন চলছে দিকে দিকে। আন্দোলনের পথ থেকে যে মানুষ সরে আসে নি, তাঁরই জলজ্যান্ত প্রমাণ মিলল এবার এক বিয়েবাড়িতে। এক বৌভাতের অনুষ্ঠানে দেখা গেল আর জি করের নির্যাতিতার প্রতীকী ছবি। জীবন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলেও তারা যে প্রতিবাদের পথ থেকে সরে আসেন নি, তেমনই বার্তা দিলেন নবদম্পতি।
ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার এক বিয়েবাড়িতে। সেখানেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন চিকিৎসক অয়ন মিদ্যা ও শিক্ষিকা ঊষসী কর। তাদের বৌভাতের অনুষ্ঠানেই উঠে এল এক নজিরবিহীন ঘটনা। এই অনুষ্ঠানে দেখা গেল আর জি করের নির্যাতিতার প্রতীকী ছবি। ছবি নীচে লেখা, “তিলোত্তমা, ভয় নাই”।
আর জি করের ঘটনার ১০০ দিনের বেশি পার হয়ে গিয়েছে। এখনও বিচারহীন এই মামলা। বিচারের দাবীতে সোচ্চার চিকিৎসক থেকে সমাজের সকল স্তরের মানুষ। এমন আবহে লড়াই জারি রাখার বার্তা দিলেন বাঁকুড়ার এই নবদম্পতি। বিয়েবাড়িতে তিলোত্তমার ছবি রাখা প্রসঙ্গে চিকিৎসক পাত্র অয়ন মিদ্যা বললেন, “আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের নির্যাতিতা আমার বোনের মতো এবং সহকর্মী। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো তাঁরও বিয়ের আয়োজন হত। আমরা আমাদের সুখের দিন হোক কিংবা দুঃখের দিন, তাঁকে কখনও ভুলব না। তাঁর উপর অত্যাচারের বিচার এখনও হয়নি। সে কথা স্মরণ করিয়ে দিতে এই উদ্যোগ”।
এই একই কথা নববধূ ঊষসী করের গলাতেও শোনা গেল। নববধূর কথায়, “আর জি করের নির্যাতিতার জন্য বিচারের দাবীতে যেখানেই আন্দোলন হয়েছে, সেখানেই আমরা দু’জনে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আজ যখন আমাদের একসঙ্গে পথ চলার দিন এল, সেই শুভক্ষণেও আমরা এই শপথ নিয়েছি, নির্যাতিতার জন্য আমরা বিচার আদায় করেই ছাড়ব”।
প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট আর জি করের সেমিনার রুম থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিস্তকের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। এই ঘটনায় গর্জে ওঠে গোটা রাজ্য-সহ দেশ। দিকে দিকে জ্বলে ওঠে প্রতিবাদের আগুন। জুনিয়র চিকিৎসকরা যেমন ক্রম্বিস্রতি, অনশন করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তেমনই সমাজের নানান স্তরের মানুষ রাস্তায় নেমে, রাতের পর তাঁর জেগে নানান কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়েছেন। সেই আন্দোলনের ঝাঁঝ যে ফুরিয়ে যায়নি, তা ফের প্রমাণিত এই বাঁকুড়া শহরের বাইপাসের ধারে আয়োজিত এই বৌভাতের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
এদিন এই বিয়েবাড়ির প্রীতিভোজের আসরে এসে অতিথিরা প্রথমেই ‘তিলোত্তমা’র ছবির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। এদিন ভোজ শেষে নিমন্ত্রিতদের হাতে উপহার হিসাবে একটি করে চারাগাছ তুলে দেন নবদম্পতি। এভাবেই নির্যাতিতার সুবিচারের দাবীতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তারা।





