বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক একটি নৃশংস ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তুলেছে। প্রতিবেশী দেশের সমাজ ও রাজনীতিতে যখন ধর্মীয় সহাবস্থানের কথা বলা হয়, ঠিক তখনই এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু গোটা অঞ্চলে অস্বস্তি তৈরি করেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরেও শুরু হয়েছে আলোচনা।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ময়মনসিংহের যুবক দীপু চন্দ্র দাস। অভিযোগ, তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করার পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। শুরুতে স্থানীয় স্তরে বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকলেও, ঘটনার ভয়াবহতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভারতের তরফে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে কড়া বিবৃতি দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরেও চাপ বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহের বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহত দীপু দাসের বাড়িতে যান বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই হত্যাকাণ্ড ‘পাশবিক’ এবং এর কোনও যুক্তি বা অজুহাত হতে পারে না। আবরারের বক্তব্য অনুযায়ী, মতের অমিল বা বিশ্বাসের পার্থক্য কখনওই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কারণ হতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি আইনশাসিত রাষ্ট্র এবং অপরাধের তদন্ত ও বিচার একমাত্র রাষ্ট্রের অধিকার।
এখানেই থেমে থাকেননি ইউনুস সরকারের দূত। দীপু দাসের পরিবারের ‘দায়িত্ব’ নেওয়ার কথাও প্রকাশ্যে জানান তিনি। আবরারের আশ্বাস, সরকার নিহতের পরিবারের পাশে থাকবে—আর্থিক সহায়তা, কল্যাণমূলক সহযোগিতা এবং নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে। গভীর শোকের এই সময়ে পরিবার যেন নিজেদের একা না ভাবে, সেটাই সরকার নিশ্চিত করতে চায় বলে জানান তিনি। এই বক্তব্যকে ইউনুস সরকারের তরফে একপ্রকার ক্ষতিপূরণমূলক বার্তা বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : “আপনারাই ওসমান হাদিকে হ*ত্যা করিয়েছেন” – ওসমান হাদির ভাইয়ের বিস্ফো*রক অভিযোগে নির্বাচনের পরিবেশ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা!
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দীপুর মৃত্যুর পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত ছাড়াও রাষ্ট্রপুঞ্জ। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাগুলি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে দীপু দাসের হত্যা এখন আর শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়—এই ঘটনা ইউনুস সরকারের প্রশাসনিক দায়, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।





