সীমান্ত ঘিরে উত্তেজনা, কূটনৈতিক ভাষা ছাপিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য—এই মুহূর্তে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বাতাসে এমনই এক অস্বস্তির সুর। প্রতিবেশী দেশের কিছু মন্তব্য, পাল্টা প্রতিবাদ, আর তার মধ্যেই দেশের রাজনীতিতে ক্রমশ জোরাল হচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কথাবার্তা। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন—এই উত্তেজনার শেষ কোথায়, আর এর প্রভাবই বা কতদূর গড়াবে?
এই আবহেই সোমবার উত্তরবঙ্গের জয়ন্তীপুর বাজারে এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। সনাতনী ঐক্য মঞ্চের ডাকে হওয়া ওই বিক্ষোভে তিনি সরাসরি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তোলেন। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির আর এক বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। শুরুতে বক্তব্য ছিল প্রতিবাদী সুরে, তবে ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় রাজনৈতিকভাবে তীব্র ও বিতর্কিত দাবিতে।
অসীম সরকারের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন ফেলে তাঁর সেই মন্তব্য, যেখানে তিনি বলেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত। তাঁর দাবি, পাকিস্তানে যেভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়েছিল, সেভাবেই বাংলাদেশেও কড়া জবাব দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে তাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। কেন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে তাঁর বার্তা, আর কোনও আপস নয়—এখনই শক্ত পদক্ষেপ জরুরি।
এই বক্তব্যের পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহ। বাংলাদেশের কয়েকজন নেতার তরফে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ দখলের হুঁশিয়ারির পর থেকেই উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিতি। ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা গেছে। কলকাতায়ও বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদ হয়েছে কয়েকদিন ধরে। সীমান্ত ঘিরে এই অস্বস্তির আবহ রাজনৈতিক বক্তব্যকে আরও ধারালো করে তুলেছে।
এদিকে, জাতীয় স্তরেও এই বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্প্রতি ‘রাইজিং অসম কনক্লেভ’-এ অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’-কে ভারতের অন্যতম বড় কৌশলগত উদ্বেগ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনে কূটনৈতিক বা অন্য পথে ২০-২২ কিলোমিটার এলাকা বাড়ানোর বিষয়টি ভবিষ্যতে ভাবা হতে পারে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, সময় ও পদ্ধতি ঠিক করবে কেন্দ্র। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Dipu Das killi*ng: “পরিবারের দায়িত্ব নিল সরকার” — দিল্লির চাপেই কি দীপু হত্যা*য় পরিবারের দায়িত্ব নিল ইউনুস সরকার?
সব মিলিয়ে, প্রতিবাদ থেকে বক্তব্য—সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে এক গভীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের দিকে। প্রশ্ন একটাই, এই উত্তেজনার রাজনীতি কি বাস্তব নীতিনির্ধারণে রূপ নেবে, নাকি শেষ পর্যন্ত কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজবে দিল্লি?





