Bangladesh: ওসমান হাদির মৃত্যুর পরই চড়ছে ভারত-বিরোধী সুর, ঢাকার মঞ্চ থেকে যু*দ্ধ ও লালকেল্লা দখলের ডাক!

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তাপ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তাপ যে আরও এক ধাপ চড়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ভাষ্য, রাস্তাঘাটের স্লোগান এবং জনসভায় নেতাদের বক্তব্য—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই সংবেদনশীল হয়ে উঠছে। এই আবহেই প্রতিবেশী দেশ ভারতকে ঘিরে ফের শোনা যাচ্ছে তীব্র ভাষা, যা শুধু রাজনৈতিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, ছড়িয়ে পড়ছে জনসমাগমেও।

এই উত্তেজনার পেছনে বড় একটি কারণ হিসেবে উঠে আসছে আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদির মৃত্যু। ঢাকায় রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান তিনি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, জীবিত থাকাকালীন একাধিকবার তাঁর বক্তব্যে ভারত-বিরোধী সুর প্রকাশ পেয়েছিল। হাদির মৃত্যুর পর সেই সুর যেন আরও জোরালো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সভা-সমাবেশে ক্ষোভ, শোক ও রাজনৈতিক আক্রোশ মিলেমিশে এক নতুন রূপ নিচ্ছে।

সম্প্রতি এমনই এক জমায়েতে বক্তব্য রাখতে দেখা যায় ‘বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসে’র একাধিক নেতাকে। সেখানেই সংগঠনের নেতা মোল্লা খালিদ সাইফুল্লাহ তাঁর ভাষণে কড়া শব্দ ব্যবহার করেন। তিনি আইন মন্ত্রণালয়কে কটাক্ষ করে বলেন, লোক দেখানো বিচার বন্ধ করার কথা। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কারাবন্দি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবি, এমনকি বিদেশে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধেও চরম শাস্তির কথা বলেন তিনি। এই বক্তব্যের প্রতিটি লাইনে উপস্থিত জনতার উল্লাস এবং স্লোগান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

তবে বক্তৃতার সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি আসে এর পরেই। মোল্লা খালিদ সাইফুল্লাহ প্রকাশ্যে বলেন, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার মতো ‘হিম্মত’ বাংলাদেশের আছে। তাঁর কণ্ঠে শোনা যায়, সেভেন সিস্টার অঞ্চল আলাদা করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, আলাদা করা নয়, বরং দিল্লির লালকেল্লা দখলের কথা। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশে উপস্থিত বহু মানুষ চিৎকার ও হাততালির মাধ্যমে সমর্থন জানান, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh : রাতভর আতঙ্কের ফোন, তবু পৌঁছায়নি সাহায্য—প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার হামলায় দুঃখপ্রকাশ শফিকুল আলমের!

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য নতুন নয়, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা আরও উদ্বেগজনক। এর আগেও বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য শোনা গেছে। সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানের বক্তব্যেও ভারতের ভূখণ্ড ভাগ করার প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা, হিংসা ও নির্বাচনী চাপের মধ্যে এই ধরনের ভাষা দুই দেশের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles