দুর্গা অষ্টমীর দিন বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় দুর্গা মণ্ডপে হামলা, অন্যান্য জায়গায় দুর্গামূর্তি ভাঙা নিয়ে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক হিংসা। এরপর নানান জায়গা হিন্দু মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর, হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও হিন্দুদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, এমন নানান ঘটনার কথা উঠে আসতে থাকে। এই ঘটনায় শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের রীতিমতো হইচই পড়ে যায়।
পরবর্তীতে ফের নোয়াখালির ইসকন মন্দির, ফেনী জেলায় একাধিক হিন্দু মন্দিরে হামলা করা হয়। দুই বাংলার হিন্দুরা, তারকা, বুদ্ধিজীবীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। বাংলাদেশ প্রশাসনের তরফে এই ঘটনা নিয়ে পদক্ষেপ করা হলেও সেভাবে এখনও অভিযুক্তরা ধরা পড়েনি।
এরই মাঝে এক মুসলিম ধর্মযাজকের ভিডিও বেশ ভাইরাল হল যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই ভিডিওতে এক মুসলিম ধর্মযাজককে বলতে শোনা গেল, “আমরা মুসলিম। আমরা মূর্তি ধ্বংস করার জন্য জন্ম নিয়েছি, তা গড়ার জন্য নয়। আমি কখনই নিজের হাতে কোনও মূর্তির ছবি ঝোলাব না কাপুরুষ। মনে রেখো, আমি সেই জাতি, যার রক্তে বইছে মূর্তি ভাঙার নীতি। এটা আমাদের চামড়ার সঙ্গে মিশে গিয়েছে”।
তৌহিদ মিডিয়া নামের এক ইসলামিক ইউটিউব চ্যানেলে এই ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এই ইউটিউব চ্যানেলেই ফেসবুকে এদের পেজের নাম উল্লেখ করা রয়েছে, যা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে এই পেজ বা চ্যানেলটি বাংলাদেশের।
এই ভিডিওতে যে ধর্মযাজক এমন মন্তব্য করেছেন, তার নাম আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ। খোঁজ নিয়ে দেখা গিয়েছে যে সাত মিনিটের এই ভিডিওটি ২০১৬ সালে পোস্ট করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি এই ভিডিওটি ফের বেশ ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিও থেকে ইসলামিক কট্টরপন্থী যারা বাংলাদেশে হিন্দু মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তাদের মানসিকতার স্পষ্ট ধারণা মেলে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ বাংলাদেশের উত্তরে জন্মগ্রহণ করেন। এরপর ভারত থেকে তিনি ইসলামিক শিক্ষা নিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। মাদ্রাসাতে প্রধান শিক্ষক ছিলেন তিনি। জাকির হুসেনের ‘পিস টিভি বাংলা’ চ্যানেলে তাঁকে অনেকবার দেখা গিয়েছে। হিন্দু বিরোধী নানান মন্তব্য নানান সময় করে থাকেন এই ধর্মযাজক।






