সামনেই বাঙালির সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। দিকে দিকে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। উমার বন্দনার জন্য চলছে তোড়জোড়। এপার বাংলায় যখন দুর্গাপুজো নিয়ে মানুষের মধ্যে উন্মাদনার অন্ত নেই, সেই সময় ওপার বাংলায় দুর্গাপুজো নিয়েই চিন্তার ভাঁজ বাঙালিদের কপালে। দুর্গাপুজো নিয়ে এল হুমকি, ফলে ভয়ের পরিবেশ হিন্দুদের মধ্যে।
যা উদ্বেগ আশঙ্কা ছিল, তা যেন ধীরে ধীরে সত্যিতে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই সে দেশে যেভাবে হিন্দুদের উপর নির্যাতন বেড়েছে, তাতে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার দুর্গাপুজো নিয়ে আদৌ কতটা কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিয়ে বেশ সংশয় ছিল।
আগামী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর দুর্গাপুজো। বাংলাদেশেও এই বছর হবে মাতৃবন্দনা। বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকার যদিও আশ্বাস দিয়েছে, ওপার বাংলায় দুর্গাপুজো নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। গত বছরের মতো যাতে মণ্ডপে বা প্রতিমায় হামলা না হয়, তার জন্য মণ্ডপে পাহারা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা যে অন্য তেমনটাই জানালেন পুজোর উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশের পুজোর উদ্যোক্তাদের দাবী, মন্দির ও পুজো কমিটিগুলিকে দুর্গাপুজো নিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ইসলামপন্থী সংগঠনগুলি তাদের হুমকি দিয়েছে, যদি ৫ লক্ষ টাকা না দেওয়া হয়, তাহলে পুজো করতে দেওয়া হবে না। এমন একাধিক হুমকি বার্তা এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এই হুমকি এসেছে মূলত খুলনাতেই। পুজো কমিটিগুলির কাছে উড়ো চিঠি আসছে বলে অভিযোগ। পুজোর আগে যদি তাদের লক্ষাধিক টাকা না দেওয়া হয়, তাহলে পুজো করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলি। আর টাকা না দিয়ে পুজো করলে বড় মাশুল দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। এই বিষয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অভিযোগ জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ নীরব দর্শক। কোনও পদক্ষেপ করছে না।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান একতা কাউন্সিলের তরফে। তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছে যাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হয়। দুর্গাপুজোর সময় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে আর সংখ্যালঘুদের উপর যাতে কোনও হামলা না হয়, এর জন্য ৬ সদস্যের একটি নজরদারি কমিটিও তৈরি করা হয়েছে বলে খবর।





