বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে। একদিকে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিবর্তন এসেছে প্রশাসনিক স্তরে, অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অভিযোগ— তাঁদের উপর নির্যাতনের পরিমাণ বেড়েছে। ইসকনের প্রাক্তন এক ধর্মগুরুর ঘটনাও সেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষ আজও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
প্রতিটি দেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকার মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু যখন এই অধিকারই প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন সমাজের ভিত নড়ে যায়। এ দেশের মতো প্রতিবেশী বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাপ্রবাহ সেই চিত্রকেই তুলে ধরছে। হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের ঘটনা যেন হয়ে উঠেছে এক প্রতীকি লড়াইয়ের নাম, যেখানে একদিকে রয়েছে রাষ্ট্রের আইন, অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রশ্ন।
চিন্ময়কৃষ্ণ দাস, যিনি এক সময় বাংলাদেশের ইসকনের অন্যতম মুখ ছিলেন, তাঁকে গত বছরের ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি জাতীয় পতাকা অবমাননা করেছেন। চট্টগ্রামে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তারপর থেকে একাধিক বার জামিনের আবেদন জানানো হলেও তা বারবার খারিজ হয়ে যায়। এমনকি শুনানির দিনে তাঁর আইনজীবীরাও আদালতে হাজির হতে পারেননি বলে অভিযোগ। এর জেরে আদালত চত্বরে অশান্তি হয় এবং একজনের মৃত্যু হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
তবে ঘটনা মোড় নেয় নতুন দিকে যখন বাংলাদেশের হাই কোর্ট চিন্ময়কৃষ্ণের জামিনের আবেদনের শুনানি শুরু করে। আদালত জানতে চায়, কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না। একাধিক শুনানির পর অবশেষে ৩০ এপ্রিল বিচারপতি আতোয়ার রহমান খান ও আলি রেজার যৌথ বেঞ্চ জামিন মঞ্জুর করে। পাঁচ মাসের বেশি সময় জেলে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেলেন সংখ্যালঘু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। প্রথম আলো-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ৪ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করেছিল আদালত। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে চিন্ময়কৃষ্ণ মুক্ত হলেন।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee: সিপিআইএম পেজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখে উঠছে প্রশ্ন—বামেরা কি এবার দিদির সুরে হাঁটছে?
এই ঘটনাকে ঘিরে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বস্তি যেমন এসেছে, তেমনই আরও বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে— রাজনৈতিক পালাবদলের পর সংখ্যালঘুদের অবস্থান কতটা সুরক্ষিত? শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে। অভিযোগ, এর পর থেকেই সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের মাত্রা বেড়েছে। চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেফতারি সেই আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। অবশেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর হলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে— এই দেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার আদৌ নিরাপদ কি?





