Mamata Banerjee: সিপিআইএম পেজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দেখে উঠছে প্রশ্ন—বামেরা কি এবার দিদির সুরে হাঁটছে?

ছুটি মানেই বাঙালির পছন্দের তালিকায় প্রথম নাম দীঘা। বঙ্গোপসাগরের পাড়ে বসে মাছ ভাজা, ডিম ভাজা কিংবা এক প্লেট গরম ভাত-মাংস না খেলে ছুটি যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু এবার দীঘায় সেই স্বাদেও পড়েছে রাজনৈতিক আঁচ। দীঘা এখন শুধু পর্যটনের গন্তব্য নয়, হয়ে উঠেছে এক রাজনৈতিক বার্তার মাধ্যম। জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের আগে থেকেই শুরু হয়েছে নানা নিয়মকানুন, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

দেখা যাচ্ছে দীঘায় আজ (৩০ এপ্রিল) এবং আগামীকাল ভিভিআইপি আগমন ও জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের দিন, হোটেল-রেস্তোরাঁয় মাংস, মাছ, ডিম পরিবেশন না করার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি পর্যটকদের হোটেল থেকে বেরোতেও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সিপিআইএমের অফিসিয়াল পশ্চিমবঙ্গের পেজ থেকে কড়া কটাক্ষ— “অঘোষিত কাফু! দীঘায় হোটেলের বাইরে বেরোতে পারবেন না কেউ, খাওয়া যাবে না মাছ, মাংস, ডিম!”
তবে এখানেই শেষ নয়। বিস্ময়ের ব্যাপার হল, দীঘায় এই দু’দিন মদ বিক্রিতে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি। তাই প্রশ্ন উঠছে— “নাগপুরকে খুশি করতে এই বন্দোবস্ত!?”

এই অঘোষিত নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চরম বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিপিআইএম তাদের ফেসবুক পেজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি জুড়ে লিখেছে এই লাইন। পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। এর পেছনে মূল উদ্দেশ্য তৃণমূল সরকারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করানো— কেন পর্যটনকেন্দ্রিক একটি স্থানে এমন অঘোষিত ‘ধর্মীয় বিধিনিষেধ’ জারি করা হল? আর কেনই বা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যদ্রব্যকে নিষিদ্ধ করা হল, অথচ মদে নেই কোনও বাঁধা?

সিপিএমের ফেসবুক ডিপিতে এবার শান্তির প্রতীক পায়রা, বরফে মোড়া পাহাড় ও জাতীয় পতাকার ছায়া। তারই মাঝে লেখা, “অঘোষিত কাফু”। দেবাংশু ভট্টাচার্যের জবাব— ‘‘নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরে পায়রা ছিল না কেন?’’ আর বিজেপির শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, ‘‘এখন সিপিএম পায়রা ওড়ানো পার্টি হয়ে উঠেছে।’‌’ সিপিএম নেতা শমীক লাহিড়ীর মতে, “আমরা সর্বত্র শান্তি চাই। তাই ফেসবুক ডিপিতে সেই বার্তা।” যদিও অনেকেই বলছেন, এই শান্তির বার্তার আড়ালে আসলে রাজনৈতিক শ্লেষ।

আরও পড়ুনঃ Digha Jagannath Mandir : একলক্ষ বার মন্ত্রোচ্চারণের পর, কোন সময় হবে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন?

আজ দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই তৈরি এই মন্দির ঘিরে রাজ্যের পর্যটন-ধর্মীয় ভাবনায় নতুন দিগন্ত খুলতে চায় সরকার। তৃণমূলের একাধিক মন্ত্রী যেমন মানস ভুঁইয়া, উদয়ন গুহ ইতিমধ্যেই এই অনুষ্ঠানের মাহাত্ম্য নিয়ে বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু বিরোধীরা বলছেন, এটি আসলে ভোট-রাজনীতির নতুন ছক। আর সেই ছকেই এবার দীঘায় ধর্মীয় আবরণে গড়ে উঠেছে এক অঘোষিত “খাদ্য কাফু”।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles