বাংলাদেশে দিন যত গড়াচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। সরকার বদলের পর থেকেই বাড়ছে সংখ্যালঘুদের উদ্বেগও। এই পরিস্থিতিতেই সামনে এল এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা বাংলাদেশের সনাতনী ঐক্যমঞ্চ-এর সদস্য কুশলবরণ চক্রবর্তী জানিয়ে দিলেন, ‘‘যারা হিন্দুদের অধিকার এবং সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের মুক্তির পক্ষে কথা বলবে, আমরা তাদেরই ভোট দেব।’’
জানা যাচ্ছে, এখনও বাংলাদেশের জেলেই বন্দি রয়েছেন সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস। উপরন্তু, তাঁর বিরুদ্ধে আরও ৫টি নতুন মামলা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক কুশলবরণ চক্রবর্তীর অভিযোগ, এই সমস্ত মামলা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর কথায়, ‘‘এগুলো একেবারে মিথ্যে মামলা। একজন অসহায় সন্ন্যাসীর উপর এভাবে চাপ সৃষ্টি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ।’’
এমন অবস্থায় সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণের মুক্তির দাবিকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সমাজের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল অসন্তোষ ও আতঙ্ক। অধ্যাপক কুশলবরণ চক্রবর্তী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ‘‘সংখ্যালঘুদের মধ্যে এই ইস্যুতে গভীর দুঃখ আর আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের যে ৮ দফা দাবি, তার মধ্যে অন্যতম এই চিন্ময় বাবুর মুক্তি। যে রাজনৈতিক শক্তি বা দল এই দাবির পক্ষে কথা বলবে, আমরা তাদের পাশেই থাকব।’’
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই মুহূর্তে অত্যন্ত অস্থির। ১০ মে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়েছে। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের পর থেকেই দেশজুড়ে ছড়িয়েছে অস্থিরতা, হিন্দু নিধনের ঘটনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়েও আশঙ্কা বাড়ছে। বিরোধী শিবিরের চেষ্টায় আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
আরও পড়ুনঃ Train accident : ভিড়ের চাপে মৃত্যু লোকাল ট্রেনে! চলন্ত গাড়ি থেকে পড়ে প্রাণ হারালেন একাধিক যাত্রী!
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগের সুর শোনা গিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট বলেছেন, ‘‘গণতান্ত্রিক দেশে এমন নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়। এতে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হচ্ছে। আমাদের দাবি, বাংলাদেশে যত দ্রুত সম্ভব নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ভোট করানো হোক।’’ এমন উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই চিন্ময়কৃষ্ণের মুক্তির দাবিতে সরব বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সমাজ। সামনের নির্বাচনে কোন দল সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।





