রাজনীতির মঞ্চে ফের উঠছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর শেয়ার করা ভিডিও নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন, অন্যদিকে সেই ভিডিওর পরিবারকে হাজির করে পাল্টা জবাব দিল তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁদের ‘অত্যাচারের শিকার’ বলে দাবি করেছেন, এবার সেই পরিবারেরই এক সদস্য দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বললেন, “জয় শ্রী রাম বলতে বলেছিল, না বলায় চেয়েছিল টাকা, মারধরও করে”।
সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হন মালদার চাঁচলের বাসিন্দা সাজনু পারভিন। তাঁর দাবি, দিল্লির মধুবিহারে হঠাৎই পুলিশ তাঁকে ঘিরে ধরে। জানতে চায়, তিনি ভারতীয় কিনা। আধার কার্ড দেখতে চায়। এরপর যখন তিনি জানান, স্বামী কাজে গেছেন, তখন পুলিশ বলে, “তুমি বাংলাদেশি, পালাতে পারবে না”। সাজনু পাল্টা বলেন, “আমি তো মালদায় থাকি, কীভাবে বাংলাদেশি হলাম?” তখন পুলিশ জানায়, “বাংলা ভাষায় কথা বললে তো বাংলাদেশিই হও”। সাজনুর কটাক্ষ, “তাহলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাংলাদেশি?” পুলিশ এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তাঁর আধার কার্ড নিয়ে সরে যায়।
এরপরের ঘটনা আরও ভয়াবহ। সাজনুর দাবি, তাঁকে মঙ্গলম হাসপাতালে এক নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে বলা হয়, স্বামীকে ফোন করতে। ফোন না থাকায় শুরু হয় মারধর। পরিচয় দেয় সিআইডি অফিসার হিসেবে। পুলিশ জানায়, “জয় শ্রী রাম বললে ছেড়ে দেব, না বললে টাকা দাও।” সাজনু রাজি না হলে, তাঁর পেটে লাথি মারা হয়। পরে স্বামীকে ফোন করে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। এরপরই মিলেছিল মুক্তি। অভিযোগ, সেই সময় তাঁদের শিশুকেও মারধর করা হয়, যার কানে এখনও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এই ঘটনা জানাজানি হতেই তৃণমূলের শিবিরে তৎপরতা শুরু হয়। সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ এবং মৌসম নূর। ফিরহাদ বলেন, “বিজেপি সরকার সংখ্যালঘুদের ভয় দেখাচ্ছে, যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টার্গেট করে এই ধরনের ঘটনা ঘটায়। মিথ্যাচার করে ভিডিওর সত্যতা চাপা দিতে চায় দিল্লি পুলিশ।” কুণাল ঘোষের অভিযোগ, “এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এমন বহু ঘটনা ঘটছে।”
আরও পড়ুনঃ অনস্ক্রিনে রসায়ন, অফস্ক্রিনে দুরত্ব! ফাটল ধরেছে জিতু দিতিপ্রিয়ার সম্পর্কে? বন্ধ মুখ দেখাদেখি? অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেতা
ঘটনার সত্যতা নিয়ে যদিও বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, তবুও সাজনুর শ্বশুর বলেন, “আমাদের পরিবারে কেউ রাজনীতি করে না, এটা আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা।” ফিরহাদ হাকিম জানান, দলীয় আইনজীবীরা ঠিক করবেন FIR হবে কিনা। একইসঙ্গে জানান, যেসব অভিবাসী শ্রমিক বাংলায় ফিরতে চান, তাঁদের জন্য সব রকম ব্যবস্থা করবে সরকার। তৃণমূলের দাবি, এটা কোনও নাটক নয়, বরং সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের নগ্ন চিত্র।






