বর্তমানে অনেক বাড়ির মেয়েরা নিজের হাতে সংসার তুলে নিয়েছেন। কিন্তু পেটের দায়ে ডোমের কাজ করছেন একটি বাঙালি মেয়ে! এই দৃশ্য দেখে আমরা কেউ অভ্যস্ত নয়। বারুইপুরের পুরন্দরপুর মহাশ্মশানের ডোম টুম্পা সেই কাজ করে দেখলেন।
বাবা বাপি দাস ছিলেন ওই শ্মশানের ডোম। কয়েক বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর সেই ডোমের কাজকেই বেছে নিয়েছেন মেয়ে টুম্পা দাস। বাড়িতে মা ও ছোট বোনের মুখে অন্ন তুলে দিতে মাধ্যমিক পাস করার পর এই কাজে তিনি নিজেকে নিযুক্ত করেছেন। কোনও রকম ভয়ের তোয়াক্কা না করে প্রায় সাত বছর ধরে ১৪ ঘণ্টা ডিউটি করে আসছেন তিনি।
টুম্পা জানিয়েছেন,’মৃতদেহ এলে সেই নথিভুক্তকরণ থেকে সৎকারের যাবতীয় কাজ আমাকেই করতে হয়। সকাল ছয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টার ডিউটি।’ এছাড়াও তিনি বলেন, ‘প্রথমদিকে একটু ভয় করত। সৎকারের কাজ করার সময় দেহ মাঝে মাঝে অবশ হয়ে যেত। কিন্তু এখন সেইসব কাটিয়ে উঠেছি। শ্মশান যাত্রীদের ভালোবাসায় নতুন করে লড়াইয়ের সাহস পাই।’
টুম্পা সংবাদ মাধ্যমকে আক্ষেপ করে বলেছেন, এই কাজ করে তিনি মাত্র ৩ হাজার টাকা বেতন পান কল্যানপুর পঞ্চায়েত থেকে। ২০১৯ সালে ইলেকট্রিক চুল্লি হওয়ার আগে ওই শ্মশানে একা হাতে কাঠের চুল্লিতে মৃতদেহ সৎকারের সমস্ত কাজ করতেন তিনি। এভাবেই কষ্ট করে সংসারের চালাচ্ছেন লড়াকু বাঙালি মেয়ে টুম্পা।





