“কর্মক্ষেত্রে মহিলা সহকর্মীর শরীরের দিকে বা স্তনে*র দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা অ*পরাধ নয়” জানালো হাইকোর্ট!

কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে প্রায়ই নানা প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে অফিসের মতো পেশাগত পরিবেশে কোন আচরণ অনৈতিক বা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি থেকে যায় অনেকের মধ্যেই। সম্প্রতি এমনই এক সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে বোম্বে হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে, যা কর্মক্ষেত্রের আচরণবিধি ও আইনের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

এই মামলার সূত্রপাত হয় ২০১৫ সালে মুম্বইয়ের বোরিভলি থানায় দায়ের হওয়া একটি এফআইআরকে ঘিরে। অভিযোগটি দায়ের করেন একটি বেসরকারি বিমা সংস্থার মহিলা কর্মী। তাঁর অভিযোগ ছিল, অফিসে মিটিং চলাকালীন তাঁর ঊর্ধ্বতন আধিকারিক অশোভন আচরণ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি সংস্থার অভ্যন্তরীণ তদন্তের মধ্যেও ছিল, যেখানে অভিযুক্তকে প্রথমে ক্লিনচিট দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে পৌঁছালে নতুন করে শুনানি শুরু হয়। অভিযুক্ত ওই সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিক ছিলেন, যা মামলাটিকে আরও গুরুত্ব দেয়। অভিযোগ এবং প্রাথমিক তদন্তের পর বিষয়টি আইনি পর্যায়ে বিচারাধীন হয়।

মামলায় অভিযোগকারীর দাবি ছিল, অফিস মিটিংয়ের সময় অভিযুক্ত ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর চোখের দিকে না তাকিয়ে বরং তাঁর শরীরের নির্দিষ্ট অংশের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। এই আচরণকে তিনি অস্বস্তিকর ও অপমানজনক বলে উল্লেখ করেন। এছাড়াও অভিযোগ ছিল, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে তাঁকে পরবর্তীতে মানসিকভাবে হেনস্থা ও অপমানজনক মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়।তবে আদালতে এই ঘটনার ব্যাখ্যা ও আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মূল প্রশ্ন ছিল, এই ধরনের আচরণ কি ভারতীয় দণ্ডবিধির নির্দিষ্ট ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না।

বিচারপতি অমিত বোরকারের সিঙ্গল বেঞ্চ এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দেন। আদালত জানায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪সি ধারা মূলত ভয়্যারিজম বা গোপনে নজরদারির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে কোনও মহিলার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিস্থিতিতে যেমন বাথরুম বা পোশাক পরিবর্তনের জায়গায়, তার অজান্তে নজরদারি বা ছবি তোলা হয়। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, অফিস মিটিংয়ের মতো পেশাগত পরিবেশ সেই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। শুধুমাত্র কারও দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা, যদিও তা অস্বস্তিকর বা অনৈতিক হতে পারে, কিন্তু তা আইনের ওই ধারায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না।

আরও পড়ুনঃ গ্লাভস পরে রোগীর চিকিৎসায় অংশ নিলেন তৃণমূল প্রার্থী! রঘুনাথপুরের ঘটনায় বিতর্ক তুঙ্গে, প্রচারের নামে কি ভাঙা হল হাসপাতালের নিয়ম?

অবশেষে আদালত ওই মামলায় দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করে দেয় এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সমস্ত ফৌজদারি প্রক্রিয়া বাতিল করে। আদালতের মতে, এই মামলাকে ওই আইনি ধারার আওতায় চালিয়ে যাওয়া আইনের অপব্যবহার হবে। তবে আদালত একই সঙ্গে এটাও স্পষ্ট করে দেয় যে, এই ধরনের আচরণ সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অবশ্যই অশোভন এবং কর্মক্ষেত্রে অসদাচরণের মধ্যে পড়তে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে POSH আইন বা অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনি ধারার অধীনে অভিযোগ বিবেচিত হতে পারে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles