বর্তমান যুগের সঙ্গে চলতে নানান ক্ষেত্রে কত ধরণের পরিবর্তন এসেছে। তেমনই সময়ের নিয়মে পরিবর্তন এসেছে মুদ্রাতেও। খুচরো পয়সা, টাকার নোটের বদলে এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। যদিও এই ডিজিটাল মুদ্রার সঙ্গে ভারতীয়দের পরিচয় ঘটেছে ২-৩ বছর আগেই।
গত বছর বেশ সাফল্য পেয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। সাধারণ মানুষ বিনিয়োগ করে বেশ লাভ করেছেন। এই কারণেই এবার বাজেটে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কি বলেন, সেদিকে নজর ছিল অনেকেরই। আজকের এই বাজেটে ভারতের নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা আনার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন তিনি।
আজ, মঙ্গলবার ছিল সংসদে বাজেট অধিবেশন। এদিন বাজেট ঘোষণা করতে গিয়ে নির্মলা সীতারমন জানান যে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ডিজিটাল মুদ্রা আনার কথা ভাবছে। ব্ল্যাকচেনের উপর ভিত্তি ২০২৩-এর মধ্যে তা তৈরি হয়ে যাবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, “ভারতে ডিজিটাল মুদ্রা আনার পরিকল্পনার প্রস্তাবনা দেওয়া হচ্ছে। ব্লকচেইন ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে এই ডিজিটাল মুদ্রা আনবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের মধ্যেই এই মুদ্রা বাজারে আনা হবে”।
কেন্দ্রীয় সূত্র অনুযায়ী, বর্তমান সময়ের ডিজিটালের উপর মানুষের নির্ভরশীলতা ও ক্রিপ্টোকারেন্সির জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই এই ডিজিটাল মুদ্রা আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ডিজিটাল মুদ্রা একদিকে যেমন দেশের অর্থনীতিকে শক্তি প্রদান করবে, তেমনিই আবার দেশে ব্লকচেন প্রযুক্তির জনপ্রিয়তাকেও বৃদ্ধি করবে। এই ডিজিটাল মুদ্রা নগদ অর্থের সমতুল্যই হবে বলে জানানো হয়।
এই বিষয়ে অর্থনীতি বিশ্লেষক সন্দীপ ঝুনঝুনওয়ালা বলেন, “দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ডিজিটাল মুদ্রা আনার সিদ্ধান্ত অর্থনীতিতে এগিয়ে যেতে বিশেষ সাহায্য করবে। ব্লকচেইনের ব্যবহার করায় দেশে নতুন এই প্রযুক্তির গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাবে। বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অনুমোদনহীন ডিজিটাল মুদ্রার যে ব্যবহার বেড়েছে, তাকে আটকানোর ক্ষেত্রে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিজস্ব এই ডিজিটাল মুদ্রা আনা। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের হাতেই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকায়, আর্থিক লোকসানের সম্ভাবনাও কম”।
এই ব্লকচেন আসলে কী?
ব্লকচেইন হল এমন এক অদৃশ্য ডিজিটাল ডেটাবেস, যেখানে তথ্য গোপন রাখা হয়। সাধারণত এই ব্লকচেইন পদ্ধতি ব্যবহার করে বিটকয়েনের মতো ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যই এক জায়গায় জমা করে রাখা হয়। যে ব্যক্তি ডিজিটাল লেনদেন করছেন, তিনি ছাড়া অন্য কেউ এই ব্লকচেইনে রাখা গোপনীয় তথ্য সম্পর্কে জানতে পারেন না।





