দুঃখের মধ্যে খুশি! ছেলের মৃত্যুশোককে দূরে রেখে বিধবা বউমার ফের বিয়ে দিলেন শ্বশুর, করলেন কন্যাদানও

বিয়ের কিছু বছরের মধ্যেই যদি ছেলের মৃত্যু হয়, তাহলে এই সব দায় এসে পড়ে সদ্য বিধবা হওয়া স্বামীহারা স্ত্রীয়ের উপর। শ্বশুরবাড়ির লোকজন সেই স্ত্রীকে গঞ্জনা করতে কসুর করে না। নানান মানসিক অত্যাচার সহ্য করে বাকি জীবনটা কাটাতে হয় সেই বিধবা মহিলাকে। তবে এবার দেখা গেল এক অন্য ছবি।

ছেলের মৃত্যুশোক ভুলে এবার নিজের হাতে বউমার বিয়ে দিলেন খোদ শ্বশুর। বউমাকে নিজের মেয়ের মতো ভেবে করলেন তাঁর কন্যাদানও। এক অনন্য ঘটনার সাক্ষী থাকল হলদিয়া। অনেক দুঃখের মধ্যেই আনন্দের হাসি ফুটে উঠল বউমা শুভ্রার মুখে।

জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে হলদিয়ার চৈতন্যপুর বরদা গ্রামের শ্যামল মালাকারের মেয়ে শুভ্রার সঙ্গে বিয়ে হয় সুতাহাটা অনন্তপুর গ্রামের নকুল ঘাঁটির একমাত্র ছেলে অর্ণবের। কিন্তু বিয়ের তিন বছরের মাথায় ২০২০ সালের ২০শে অক্টোবর এক মোটরবাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর।

অর্ণব ও শুভ্রার একটি পুত্র সন্তান ছিল। স্বামীকে হারিয়ে একাকীত্বে ভুগছিলেন শুভ্রা। ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছিল তাঁর জীবন। বউমার এই কষ্ট সহ্য করতে পারেন নি নকুলবাবু। এরপরই তিনি বউমার ফের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সেই অনুযায়ী, হলদিয়া টাউনশিপের রামগোপালচকের বিনয় সাঁতরার ছেলে মধুসূদন সাঁতরার সঙ্গে শুভ্রার বিয়ে ঠিক করেন নকুলবাবু। জানা গিয়েছে, বিয়ের পর তারা দুজনে নকুলবাবুর বাড়িতেই থাকবেন। শুভ্রার তিন বছরের ছেলে মৈনাকেরও দায়িত্ব নেন মধুসূদন। সমাজের চলতি প্রথা ভাঙায় বেশ খুশি তিনি।

বউমাকে নিজের মেয়ের স্নেহেই দেখেন নকুলবাবু। তাই বিয়েতে তিনিই শুভ্রার কন্যাদান করেন। সব মিলিয়ে সোমবারের এই বিয়েতে এক অন্য ধরণের ঘটনার সাক্ষী থাকলেন হলদিয়ার বাসিন্দারা। বউমাকে কন্যাদান সমাজকে বার্তা দিলেন নকুলবাবু। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন সকলেই। এলাকাবাসী নকুলবাবুর এমন সিদ্ধান্তের বেশ প্রশংসাও করেছেন।

RELATED Articles