তাঁর মেয়ে বিশেষভাবে অক্ষম। নিজের হাতে তুলে খেতে পারে না। স্ত্রীই খাইয়ে দিতেন মেয়েকে। কিন্তু পরবর্তীতে স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে পড়ায় মেয়েকে খাওয়াতে পারতেন না। মেয়েকে না খাওয়াতে পেরে শুয়ে শুয়ে কাঁদতেন স্ত্রী। সেই কারণেই মেয়েকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি রোবট তৈরি করে ফেললেন গোয়ার বিপিন কদম। তাঁর এই কীর্তিতে এখন হইচই পড়ে গিয়েছে কোঙ্কণ উপকূলের এই রাজ্যে। বিপিন পেশায় দিনমজুর।
একেবারে অসাধ্য সাধন করেছেন বিপিন কদম। প্রযুক্তি বিজ্ঞান সম্পর্কে কোনওরকম ধারনা ছিল না বিপিনের। কিন্তু তিনিই বানিয়ে ফেললেন এমন একটি রোবোট। এক সময় বিপিনের স্ত্রী বিশেষ ভাবে সক্ষম ১৪ বছরের মেয়েকে খাইয়ে দিতেন। কিন্তু পরে তিনিও অসুস্থতার কারণে শয্যাশায়ী হয়ে যান। এর ফলে মেয়েকে খাওয়ানো নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে থাকে।
বিপিন জানানা যে মেয়েকে খাওয়াতে না পেরে তাঁর স্ত্রী শুয়ে শুয়ে কান্নাকাটি করতেন। দিনের শেষে কাজ থেকে বাড়ি ফিরে বিপিনই খাওয়াতেন মেয়েকে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পথ খুঁজতে গিয়েই আশ্চর্য আবিষ্কার করে ফেললেন বিপিন।
সংবাদমাধ্যমে বিপিন জানান যে এই যন্ত্রটি তৈরি করতে তাঁর এক বছর সময় লেগেছে। তাঁর কথায়, তিনি শুরুর দিকে রোবট তৈরি করার ভাবেন নি। ওই ধরণের কোনও যন্ত্র খুঁজছিলেন তিনি, তা কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খাবার খাইয়ে দেওয়ার মতো কোনও যন্ত্রের খোঁজ পান নি বিপিন।
এরপরই এই যন্ত্র নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন বিপিন। রোবট কীভাবে তৈরি করতে হয়, তা নিয়ে অনলাইনে নানান জোগাড় করেন তিনি।, আর সেই মতোই কাজে হাত দেন। সমস্ত কাজ ফেলে ওই রোবট তৈরিতেই মন দেন পেশায় দিনমজুর বিপিন। প্রতিদিন একটানা প্রায় ১২ ঘণ্টাও কাজ করতেন তিনি।
আর শেষ পর্যন্ত পরিশ্রমের ফল পেলেন বিপিন। মেয়েকে খাইয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি করে ফেললেন একটি রোবট। নিজের স্ত্রী ও সন্তানের কথা মাথায় রেখেই এই রোবটের নাম দেন ‘মা রোবট’। তাঁর এই আবিষ্কার তাক লাগিয়েছে সকলকে। তাঁর কীর্তিকে ইতিমধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে গোয়া স্টেট ইনোভেশন কাউন্সিল। নিজের তৈরি এই এবার রোবটটি বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন তিনি। তাঁর মেয়ের মতো শারীরিকভাবে অক্ষমদের যাতে সঙ্গী হয়ে ওঠে এই রোবট, এখন শুধু এটাই চান বিপিন কদম।





