২০১৪ সালের টেট পরীক্ষার উত্তরপত্র বেআইনিভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে কলকাতা হাইকোর্টে। এই তথ্য সামনে আসার পর আজ, মঙ্গলবার এই ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ সিবিআইকে দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি আজই রাত ৮টার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে সিবি আই দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে।
এবার এই বিষয়ে বোমা ফাটালেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। এদিন সিপিএমের এই কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “মানিক সময়ে নিজাম প্যালেসে গেলে ভাল। নইলে ওঁকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখান থেকে ছেলেমেয়েরা গলায় গামছা বেঁধে নিজাম প্যালেসে পৌঁছে দিয়ে আসবে”।
কিন্তু এখানে ছেলেমেয়েদের বলতে কাকে বোঝাতে চাইলেন সুজন?
তাঁর উত্তর, “চাকরিপ্রার্থীরা। সেইসঙ্গে আমাদের ছেলেমেয়েরাও থাকবে। কারণ মানিক অপরাধ করেছেন। ছেলেমেয়েদের জীবন নষ্ট করেছেন। আজকে ওঁর এবং ওঁদের মতো লোকের জন্য এই উৎসবের সময়ে রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে”।
২০১৪ সালের টেট মামলায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ যে রিপোর্ট আদালতে জমা করেছে, তাতে অনেক ফাঁক পেয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। উত্তরপত্র কীভাবে নষ্ট করা হবে, সে বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা সেই রিপোর্টে নেই। শুধুমাত্র পেপার মিলে পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে। সেই রিপোর্ট দেখে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান যে এই নথি নষ্ট করার সময় পর্ষদের কোনও আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন না। ফলে কত উত্তরপত্র নষ্ট করা হয়েছে, তার কোনও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা নেই।
রিপোর্টের বলা রয়েছে প্রায় ১২.৯৫ লক্ষ উত্তরপত্র নষ্ট করা হয়েছে। ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে কার কার উত্তরপত্র নষ্ট হল, তাও জানা নেই। কেন সেই উত্তরপত্র নষ্ট করা হল, আইন মেনে কী তা করা হয়েছে, যার নির্দেশ মেনে সেই উত্তরপত্র নষ্ট করা হয়েছে? এসব তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইকে দিল আদালত।
শুধু তাই-ই নয়, এই মামলায় আজ, মঙ্গলবারের মধ্যেই পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আজ রাত ৮টার মধ্যে সিবিআই দফতরে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে তাঁকে সহযোগিতা করতেই হবে। যদি তিনি না করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে। প্রয়োজনে মানিককে নিজেদের হেফাজতেও নিতে পারে সিবিআই, এমনটাই জানিয়েছে আদালত।






