পাঁচ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে বিগত ৯ বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ভিখারিদের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন এই ডাক্তার অভিজিৎ সোনাওয়ান। যার সাদা রঙের অ্যাপ্রনের গায়ে লেখা ডক্টর ফর বেগার্স (Dr. For Beggars)। গরিব দুঃখীদের কাছে যে মানুষটা স্বয়ং মনুষ্য রূপী ভগবান। পুনের এক নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে বড় হয়েছেন অভিজিৎ বাবু। ছোটবেলা থেকে মেধাবী থাকার দরুন পাশ করেছেন ডাক্তারি। ডাক্তারি পাশ করলেও নিজের একটি চেম্বার খোলার মত পয়সা ছিল না তার কাছে।
অন্যদিকে বাবুর বন্ধুরা যখন ডাক্তারি পাশ করে গাড়ি বাড়ি বিলাসবহুল জীবন নিয়ে ব্যস্ত, সে সময় অভিজিৎ বাবু লোকের দরজায় ঘুরে ঘুরে ডাক্তারি করতেন। লোকের দরজা নক করে জিজ্ঞেস করতেন কোন পেসেন্ট আছে কিনা। ভিসিট নিতেন মাত্র ৫ টাকা। আর এখন সেই মানুষটাই গরীব অসহায় মানুষগুলোকে ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখাচ্ছেন। অভাবের ঘর থেকে উঠে এসেও ৫ লাখ টাকার চাকরি বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে আজ অভিজিৎ বাবু হয়ে উঠেছেন দুঃস্থ মানুষদের ভরসার খুঁটি।
অভিজিৎ বাবু সময় অসময়ে রাস্তার ভিক্ষা বৃত্তি করা মানুষগুলোর অসুস্থতার খবর শুনলেই তার বাইক নিয়ে তৎক্ষণাৎ হাজির হয়ে যান। ছোটবেলা থেকেই অভাব দেখে বড় হয়েছেন অভিজিৎ বাবু। না না বাধা-বিপত্তি সরিয়ে যখন একটা চাকরি পেলেন, তখন আর পিছনে ফিরে তাকায় কে? একের পর এক প্রমোশন আর বিলাসবহুল জীবনের হাতছানি। তবে মাসে ৫ লাখ টাকা মাইনে পেয়েও শান্তি পেতেন না অভিজিৎ বাবু। তার মনে পড়তো তাঁর বাবার বলা কথাগুলো। “সকলে তো টাকা কামায় তুমি না হয় আশীর্বাদ তো কামিও”। এরপরেই চাকরি ছেড়ে রাস্তায় নামেন অভিজিৎ বাবু।
২০১৫ সাল থেকে পুনের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে দুঃস্থ মানুষদের চিকিৎসা করতেন তিনি। শহরের ফুটপাত, রেলস্টেশন, রেস্তোরাঁ, মন্দির, মসজিদ, গির্জা সবকিছুর বাইরে বসে থাকা ভিক্ষুকদের নিজের দায়িত্বে চিকিৎসা করতেন অভিজিৎ বাবু। প্রতিটি ভিক্ষুকের কাছে গিয়েই তাদের দরকারি ওষুধ পত্র থেকে শুরু করে হাসপাতালে ভর্তি করা নিজের একার হাতে সামলান তিনি। ২০১৫ সালে সোশ্যাল হেলথ অ্যান্ড মেডিসিন নামে একটি ট্রাস্ট শুরু করেন। সকলের কাছে আবেদন জানান ভিক্ষুকদের ভিক্ষা না দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করতে এগিয়ে আসার জন্য।
অভিজিৎবাবুও মাসের ১৫ দিন সোম থেকে শনি সকাল দশটা থেকে দুপুর ৩ টা অব্দি বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ান পুনেও চিনচুয়ারের প্রায় সাতটি জায়গায়। যেখানে ১১০০ ভিক্ষুককে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন তিনি। অভিজিৎ বাবুর সংস্থা সোহম প্রায় ৫২ জন ভিক্ষুক শিশুর লেখাপড়ার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন। চিকিৎসার পাশাপাশি ভিক্ষুকরা যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে তার জন্য ওজন মেশিন কিনে দেন অভিজিৎ বাবু। এছাড়াও বহু ভিক্ষুক মেয়েদের তিনি কিনে দিয়েছেন সেলাই মেশিন। অভিজিৎ বাবুর এই উদ্যোগে ১৬৫ জন মানুষ ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। তারা কেউ আর ভিক্ষে করেনা।





