স্কুলে শিক্ষার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন ব্ল্যাকবোর্ড। কিন্তু স্কুলে সেই ব্ল্যাকবোর্ডই নেই, সেটা তো বিশ্বাসযোগ্যই নয়। আর ব্ল্যাকবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্লাসরুমের দরজা। আর সামনে বসে পড়ছে ছাত্রছাত্রীরা। এমনই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার হিঙ্গুলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি সরকারি স্কুলে। এই স্কুলের ভিডিও-ই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, এক শিক্ষক ক্লাসরুমের দরজাকেই ব্ল্যাকবোর্ড হিসাবে ব্যবহার করছেন। এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওড়িশার স্কুলটিকে ঘটনাটির কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেনই বা ব্ল্যাকবোর্ডের বদলে দরজাতে প্রশ্নপত্র লিখতে গেলেন ওই শিক্ষক? আসলে ওই ক্লাসরুমে কার্যত কোনও ব্ল্যাকবোর্ডই ছিল না বলেই অভিযোগ অভিভাবকদের।
সংশ্লিষ্ট স্কুলের ছাত্রছাত্রি-অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন যে গোটা বছর ক্লাসরুমের দরজাকেই ব্ল্যাকবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই খবর সামনে আসতেই বেশ চর্চা শুরু হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টি সামনে আসতেই ওই সরকারি স্কুলকে জাজপুর জেলা শিক্ষা আধিকারিক, ডিইও এবং সমগ্র শিক্ষা প্রকল্পের প্রজেক্ট ডিরেক্টরের তরফে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে।
এপ্রসঙ্গে ডিইও বলেন, “আমরা দায়িত্ব পালনে অবহেলার জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি, এবং তাঁকে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছি”।
এই নিয়ে স্কুলের তরফে কোনও জবাব দেওয়া না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ডিইও। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওড়িশা সরকারের চালু করা 5T উদ্যোগের অধীনে আপগ্রেড হওয়া স্কুলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি স্কুলটিও ছিল। এরপরও কীভাবে ওই স্কুলে ব্ল্যাকবোর্ডের মতো স্কুলের নূন্যতম সরঞ্জাম নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।
স্কুলের ক্লাসরুমের দরজা সারাবছর ব্ল্যাকবোর্ড হিসাবে ব্যবহৃত হয় না, এই নিয়ে সাফাইও দিয়েছেন হিঙ্গুলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের দুটি স্মার্ট ক্লাসরুম আছে। যেহেতু স্কুলের ক্লাস ১ থেকে ৮ পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসচ্ছে, তাই সমস্ত ক্লাসরুমে বসার ব্যবস্থা করতে আমাদের কিছুটা সমন্বয় করতে হয়েছে”।





