অনেক সময়ই দেখা যায় রোগীর মৃত্যুর পরেও পরিবারের দুঃখ আরও বাড়িয়ে তোলে হাসপাতাল। কারণ হিসেবে উঠে আসে বাকি বিল। টাকা না মেটালে দেহ আটকে রাখার অভিযোগ বারবারই সামনে এসেছে। এমন ঘটনা সমাজের কাছে যেমন অমানবিক মনে হয়, তেমনি মৃতের পরিজনদের কাছেও এটি এক কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়।
এই সমস্যার সমাধানেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন বা স্বাস্থ্য কমিশন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও অবস্থাতেই টাকা বা বকেয়া বিলের কারণে মৃতদেহ আটকে রাখা যাবে না। রোগীর মৃত্যুর পর দেহ দ্রুত পরিজনদের হাতে তুলে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলিকে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মৃতদেহ না ছাড়লে হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা নার্সিংহোমের লাইসেন্সও বাতিল করা হতে পারে। তবে যদি কোনও বৈধ কারণে মৃতদেহ ছাড়তে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে, সেক্ষেত্রে হাসপাতালকে সমস্ত তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে এবং কমিশনকে জানাতে হবে।
অন্যদিকে, যদি মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আবেদন করা হয় যে দেহ নির্দিষ্ট সময়ের বেশি মর্গে রাখা হোক, তাহলে হাসপাতালের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। অর্থাৎ নিয়ম ভাঙার জন্য হাসপাতালকে যেন ভুলভাবে অভিযুক্ত না করা হয়, সেটিও কমিশন খেয়াল রেখেছে।
আরও পড়ুনঃ Nepal Protest : জেন জি রেভলিউশন! সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র নেপাল, সেনা নামাল সরকার!
স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যান অসীম বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “কোনও রোগী হাসপাতালে মারা গেলে দ্রুত দেহ ছাড়তে হবে। টাকার জন্য দেহ আটকে রাখা একেবারেই আইনবিরোধী। আমাদের আইনেই তা স্পষ্টভাবে লেখা আছে। সেই নিয়মকেই আবারও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।” উল্লেখযোগ্য, গত ১২ অগস্ট কলকাতার একবালপুরে এক বেসরকারি হাসপাতালে অভিযোগ উঠেছিল যে, রোগীর মৃত্যুর পর প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে দেহ আটকে রাখা হয়েছিল। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।





