নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হয়েছে ব্যাপক অশান্তি। সম্প্রতি সরকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে যুব সমাজ। ক্রমশ সেই আন্দোলন রূপ নিচ্ছে সহিংসতায়। রাজধানীর রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ঢল নামতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। জলকামান, কাঁদানে গ্যাস, এমনকি রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে প্রশাসন। পাল্টা লাঠি, বোতল, গাছের ডাল ছুঁড়েছে বিক্ষোভকারীরা। সংসদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এই সংঘর্ষে কমপক্ষে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
অশান্তি দমন করতে রাজধানীতে জারি হয়েছে কারফু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা মোতায়েন করেছে নেপাল সরকার। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কিছু বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনে প্রবেশ করতে সক্ষম হন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আন্দোলনকারীরা স্লোগান তুলেছেন দুর্নীতি বিরোধী দাবিতে, অভিযোগ তুলেছেন সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে নেপালে একসঙ্গে ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব সহ একাধিক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম। আশ্চর্যের বিষয়, শুধুমাত্র টিকটক চালু রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ যুব সমাজ নামছে পথে। আন্দোলনকারীরা এই বিক্ষোভকে নাম দিয়েছেন ‘জেন জি রেভলিউশন’।
আরও পড়ুনঃ WB 5th Pay Commission DA Case Update: পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ নিয়ে চূড়ান্ত লড়াই শেষ, রায়ের অপেক্ষায় সরকারি কর্মচারীরা!
সরকারের দাবি, বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি নেপালের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের নিয়ম মানেনি, তাই তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য একেবারেই ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হচ্ছিলেন, সেই কণ্ঠরোধ করতেই একযোগে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্তই এখন দেশের তরুণ প্রজন্মকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।





