৬ বছরের সুখের বৈবাহিক সম্পর্ক তাদের। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানও ছিল দম্পতির। কিন্তু বাঁধ সাধল স্ত্রীয়ের অসুস্থতা। সেই অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে গিয়েই এমন এক সত্যি সামনে এল, যা রীতিমতো তাদের দাম্পত্য জীবনকে ছারখার করে দিতে পারে।
ঠিক কী ঘটেছে ঘটনাটি?
নিজের জীবনের এই কঠিন সত্যের কথা নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান যুবক। তিনি জানান, তাদের সন্তানের জন্মের পর তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিডনির অসুখ ধরা পড়ে তাঁর। বেশ কিছুদিন চিকিৎসার পর চিকিৎসক কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
চিকিৎসকের কথা অনুযায়ী, কিডনি ডোনারের খোঁজ করতে থাকেন যুবক। তবে সেরকম কোনও ডোনার না মেলায় যুবক স্থির করেন তিনি নিজেই কিডনি দেবেন স্ত্রীকে। একাধিক পরীক্ষানিরীক্ষার পর চিকিৎসক যুবককে জানান যে তিনি তাঁর স্ত্রীকে কিডনি দিতে সক্ষম।
চিকিৎসক জানান, ওই যুবককে এইচএলএ (হিউম্যান লিউকোসাইট অ্যান্টিজেন) পরীক্ষা করতে হবে। আর সেই পরীক্ষাতেই তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে মিল খুঁজে পান চিকিৎসকেরা। এরপরই সামনে এসে জীবনের সেই সত্যি। জানা যায়, যুবকের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। এ খবর শুনেই চমকে ওঠেন দম্পতি।
কিন্তু এমনটা কীভাবে সম্ভব?
ওই যুবককে আসলে জন্মের পর দত্তক নেওয়া হয়েছিল। সেই কারণে নিজের আসল বাবা মা-র পরিচয় কখনও জানতেই পারেননি তিনি। যদিও আসল বাবা-মায়ের অভাব কোনওদিনই বোধ করেননি যুবক। তবে নিজের বৈবাহিক জীবনের এমন সত্যিও যে কখনও তাঁর সামনে আসতে পারে তা তিনি ভাবতেও পারেননি।
এমন ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়াতে সামনে আসার পরই এই নিয়ে নানান চর্চা শুরু হয়েছে। নানান নেটিজেনরা নানান প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন এই ঘটনায়। বেশিরভাগের মতেই, এতদিন বৈবাহিক জীবন অতিবাহিত করার পর এই ঘটনাকে গুরুত্ব না দেওয়াই ভালো। নেটিজেনদের মতে, এই ঘটনা যাতে তাদের সন্তানের উপর কোনও প্রভাব না ফেলতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিত।






