‘সরকার যেন প্রস্তুত থাকে’, পুজোর পরই রাজভবন ঘেরাও, লাগাতার ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি, আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াল ডিএ আন্দোলনকারীদের

প্রায় ১ বছর ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবী তুলে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। বকেয়া ডিএ-সহ চারদফা দাবী জানিয়ে ১০ ও ১১ অক্টোবর কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয় যৌথ মঞ্চের তরফে। এরপরও তাদের দাবী না মিটলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তারা।

আজ, বুধবার কর্মসূচি শেষে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “আদালত বাদে সর্বত্রই পেন ডাউন হয়েছে। অবিলম্বে ডিএ সহ বকেয়া দাবি না মিটলে পুজোর পরে লাগাতার ধর্মঘটের জন্য সরকার যেন প্রস্তুত থাকে”।

 ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা-সহ নানান বকেয়া পাওনার দাবী তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসেছিল তৃণমূল। সেই সেই প্রসঙ্গ টেনে সংগ্রামী যৌথমঞ্চ এদিন জানায়, “বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মচারী আন্দোলন বা গণ আন্দোলনকে ১৪৪ ধারা দেখিয়ে আটকে দেওয়া হয়। অথচ রাজভবনের মতো হাই সিকিউরিটি জোনে দিনের পর দিন ধর্না অবস্থান চললো। তাই আমরা ঠিক করেছি পুজোর পরে রাজভবনের দক্ষিণ গেটে এবং নবান্নে আমাদের লাগাতার ধর্না অবস্থান চলবে। দাবি না মানা পর্যন্ত এই অবস্থান চলবে”।

ভিন রাজ্যে গিয়ে যাতে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজ না করতে হয়, সেই কারণে তাদের নাম নথিভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের কথায়, “পরিযায়ী শ্রমিকদের তালিকা তৈরির জন্য সম্প্রতি পোর্টাল তৈরি করেছে রাজ্য। তাতে প্রায় ১৫ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। আমাদের প্রশ্ন, যে রাজ্যে ৬ লক্ষ শূন্যপদ সেই রাজ্যের মানুষকে কেন অন্য রাজ্যে ধান কুটতে যেতে হবে”।

প্রসঙ্গত, সাড়ে আট মাস ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-সহ একগুচ্ছ দাবীতে আন্দোলন করছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। ইতিমধ্যেই ধর্মঘট, কর্মবিরতি, পেনডাউন একের পর এক কর্মসূচি করা হয়েছে। কিন্তু দাবী পূরণ হয়নি তাদের। চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ৩ শতাংশ ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

তবে তাতে মোটেই সন্তুষ্ট নন কর্মচারীরা। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবীতে অনড় আন্দোলনরত তারা। অন্যদিকে আবার রাজ্য সরকারও নিজেদের অবস্থান একাধিকবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর থেকে বেশি ডিএ দেওয়া সম্ভব নয়।

RELATED Articles