মাত্র ২ টাকায় গোটা বছর স্নাতক কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের পড়ান মাস্টারমশাই, পড়াবেন নাকি আপনার ছেলেমেয়েদের?

এমন কিছু কিছু মানুষ রয়েছেন এই পৃথিবীতে, যাদের দেখলে মানবতার প্রতি ফের বিশ্বাস জন্মায়। তাদের কথা উঠলেই যেন ভক্তি আসে তাদের জন্য। এমনই একজন ব্যক্তি হলেন পূর্ব বর্ধমানের সুজিত চট্টোপাধ্যায়। তাঁকে অবশ্য সেই এলাকায় সকলে মাস্টারমশাই নামেই চেনেন। ৫০ বছর ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন তিনি।

৭৭ বছর বয়সী এই সুজিত চট্টোপাধ্যায় পূর্ব বর্ধমানের রামনগর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। স্কুল থেকে অবসর নিলেও শিক্ষকতা থেকে কিন্তু অবসর নেন নি। আজও তিনি পড়িয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তাঁর ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়েছে।

পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের এই প্রজন্মের পর প্রজন্মকে যেন শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। আর সবথেকে আশ্চর্য করার বিষয় হল, তাঁর এই শিক্ষকতার জন্য তিনি বেতন নেন মাত্র ২ টাকা। না, প্রতি মাসে নয়, প্রতি বছর। হ্যাঁ, মাত্র ২ টাকা প্রতি বছরে বেতন নিয়েই তিনি প্রাথমিক থেকে স্নাতক, সমস্ত শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের পড়ান। প্রাথমিক বিভাগে বিজ্ঞানের বিষয় ছাড়া সব বিষয়ই পড়ান। উচ্চ প্রাথমিকে পড়ান বাংলা ও সংস্কৃত এবং স্নাতক কোর্সের ছাত্রছাত্রীদের শুধু বাংলা পড়ান।

কিছু বছর আগেই এই সুজিত চট্টোপাধ্যায় এসেছিলেন জি বাংলার ‘দাদাগিরি’-তে। সেখানের সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনে নিজের এই ‘সদাই ফকিরের পাঠশালা’র কথা বলেন তিনি। তাঁর কথামতো তাঁর ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে শুভেচ্ছাও জানান সৌরভ।

কিন্তু বছরে মাত্র ২ টাকায় পড়িয়ে তাঁর সংসার চলে কীভাবে? মাস্টারমশাই জানান তিনি নিজের স্কুল জীবনের চাকরি থেকে যা পেনশন পান, তাতেই তাঁর চলে যায়। কিন্তু গরীব, অসহায় ছাত্রছাত্রীদের অতি কম বেতনে পড়িয়ে তিনি যে আনন্দ পান, তা বলে প্রকাশ করা যায় না।

এই পর্বে সৌরভ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে তিনি তো দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন। আগেকার ছাত্রছাত্রী ও বর্তমান যুগের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তফাত কোথায়? মাস্টারমশাই বলেন, “আগেকার দিনের ছাত্রছাত্রীরা এখনও রাস্তায় দেখা হলে দাঁড়িয়ে বা সাইকেল থেকে নেমে প্রণাম করে, কথা বলে। কিন্তু এখনকার ছাত্রছাত্রীরা সাইকেল নিয়ে বা ফোন হাতে নিয়ে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যায়”।

২০০৪ সাল থেকে এই ‘সদাই ফকিরের পাঠশালা’ চালাচ্ছেন মাস্টারমশাই। ২০২১ সালে তিনি পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর মতো ছাত্রছাত্রী গড়ার কারিগর আরও অনেকদিন বেঁচে থাকুন ও সুস্থ থাকুন। এই কামনাই করতে পারি আমরা।

RELATED Articles