কথায় বলে মানুষ ভালোবাসলে সবকিছু করতে পারে। যদিও অনেকেই এই কথাকে সিনেমার ডায়লগ মনে করেন তবে এই পৃথিবীতে আজ ২০২০তে দাঁড়িয়েও এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যাদের কাছে ভালোবাসাটাই আসল। যেমন চণ্ডীগড়ের নববিবাহিত দম্পতি রাহুল ও অনামিকা।
২০১৬ সালে রাহুল অ্যাক্সিডেন্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন তার পর থেকে হুইল চেয়ারেই জীবন কাটে তার। কিন্তু সেটা তার ভালবাসার জীবনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। ভালোবেসেই রাহুলকে বিয়ে করলেন অনামিকা। তারপর জমিয়ে করলেন নাচ। মুখে তখন হাজার ওয়াটের হাসি।

রাহুল ও অনামিকা ছোটবেলা থেকেই একে অপরকে চেনেন। তারা আসলে প্রতিবেশী। ২০০৮ সাল থেকে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছেন এই দুজন। ছোটবেলার বন্ধুত্ব প্রেম সম্পর্কে পরিণত হয় যা গতকাল বিবাহ বন্ধনে পরিণত হয়েছে।
২০১৬ সালের অ্যাক্সিডেন্ট এর পর রাহুলের নিম্নাঙ্গ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যায় । কিন্তু তাও রাহুলকে এই অবস্থায় ছেড়ে যাননি অনামিকা। দুর্ঘটনার পর রাহুলকে মনের জোর জোগানোর জন্য প্রতিদিন দুপুরে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে যেতেন অনামিকা।
অনামিকার নিজের পরিবারে কেউ নেই। মা ও বোন মারা গিয়েছেন ক্যান্সারে এবং বাবা ও কয়েক বছর আগে ব্রেন হ্যামারেজে মারা গিয়েছেন। তাই নিজের জীবনের প্রিয় মানুষটাকে আর কাছছাড়া করতে চাননি অনামিকা। ২০১৮ সালে যখন রাহুলের পরিবার কানপুরে চলে যায় রাহুলের ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাবার বদলির জন্য তখনই অনামিকা তাদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। রাহুলের পরিবার অনামিকার এই প্রস্তাব শুনে হতবাক হয়ে যায় এবং আনন্দবিহ্বল হয়ে বিয়ের অনুমতি দেন।
এরপরে গতকাল চন্ডীগড় স্পাইনাল রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে বসে বিয়ের আসর। একে অপরের সঙ্গে সারা জীবন থাকার অঙ্গীকার করেন নবদম্পতি। তাদের প্রেমকাহিনী প্রকাশ্যে আসার পরই সকলেই তাদেরকে ধন্য ধন্য করছেন।





